শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
১৭ বছর পর ন্যায়ের জয়, শেষ হলো রাজনৈতিক নাটক!
অনলাইন ডেস্ক
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রায় ১৭ বছরের পুরনো এই মামলায় আদালত বলেছে, অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। বিচারিক আদালতের সাজাও বাতিল হয়েছে।
বুধবার (২৮ মে) বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়, মামলার অভিযোগ টিকেইনি। একইসঙ্গে দুই আসামির সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেওয়া হয়।
আদালতে আপিলকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, কায়সার কামাল ও জাকির হোসেন ভূঁইয়া। দুদকের হয়ে ছিলেন আইনজীবী আসিফ হাসান। রাষ্ট্রের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আব্দুল করিম।
এর আগে গত সোমবার (২৬ মে) শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২৮ মে দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
সেদিন সাংবাদিকদের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, “তারেক রহমানের নামে দেখানো সব সম্পত্তিই বৈধ উৎস থেকে আসা। এক টাকাও অসাধু উপায়ে অর্জিত নয়। তার কোনো সম্পত্তি দেশের বাইরে নেই, এমনকি তার পরিবারেরও না।”
তিনি বলেন, “সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়িটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। অথচ সেটিকে অবৈধ সম্পদ বলে মামলায় তোলা হয়েছে। গুলশানের আরেকটি সম্পত্তি মাত্র ৩৩ টাকায় রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দ, তাও মামলায় উঠেছে। এটা বিচার নয়, প্রহসন।”
তারেক রহমানের খালাস বিষয়ে শাহজাহান বলেন, “আমরা আদালতকে বলেছি, জুবাইদা রহমান আইনি প্রক্রিয়ায় আপিল করেছেন। আমরা নজির দেখিয়েছি—২১ আগস্ট মামলা, গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের মামলা, অরফ্যানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়—even যদি কেউ আপিল না করে, প্রমাণ না থাকলে তাকে খালাস দেওয়া যায়।”
তিনি আরও জানান, “জুবাইদা রহমানের আপিল শুনতে গিয়ে যদি দেখা যায়, তারেক রহমানের সম্পদও বৈধ, তাহলে এই খালাসের সুফল তাকেও দিতে পারেন। আগেও আদালত এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমরা সব তথ্য বুধবার জমা দিয়েছি।”
এর আগে ১৪ মে জুবাইদার তিন বছরের সাজা স্থগিত করে আপিল গ্রহণ করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই দিন তাকে জামিনও দেওয়া হয়।
১৩ মে হাইকোর্ট ৫৮৭ দিনের বিলম্ব মার্জনা করে আপিল দায়েরের অনুমতি দেন।
২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক। অভিযোগ ছিল—জানানো আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন।
২০২৩ সালের ২ আগস্ট ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান রায়ে তারেক রহমানকে দুই ধারায় মোট ৯ বছর এবং জুবাইদাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন।
দুদক আইনের ২৬(২) ধারায় তারেককে ৩ বছর এবং ২৭(১) ধারায় ৬ বছরের সাজা ও ৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। জুবাইদাকে ২৭(১) ধারায় ৩ বছরের সাজা ও ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
পরে সরকারের নির্বাহী আদেশে জুবাইদার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত হয়।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেকের সঙ্গে লন্ডনে যান জুবাইদা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ৬ মে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশে ফেরেন তিনি।
এই রায়ে যেন নতুন মোড় নিয়েছে দেশের আলোচিত দুর্নীতি মামলা। হাইকোর্ট বলেছে—অভিযোগের ভিতেই ফাটল ছিল। বিচার নয়, ছিল প্রতিহিংসার ছায়া।