বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
মেয়র ইস্যুতে মুখ খুললেন ইশরাক হোসেন
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আলোচিত মেয়র পদ নিয়ে শুরু হওয়া আইনি বিতর্কে এবার সরব হলেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
মঙ্গলবার (২০ মে) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওবার্তায় সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্যের জবাব দেন তিনি। উপদেষ্টার দেওয়া ১০টি ‘ভুল’ পয়েন্টকে “আইনি বিভ্রান্তি ছড়ানো ও জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টার অংশ” বলে দাবি করেন ইশরাক।
তিনি বলেন, “সরকারি উপদেষ্টা ইচ্ছাকৃতভাবে আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। এবার তথাকথিত ‘১০টি পয়েন্টের’ সঠিক ব্যাখ্যা দিলাম।”
উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ মে) আসিফ মাহমুদ নিজের ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে ইশরাকের শপথ ও মেয়রত্ব নিয়ে ১০টি যুক্তি দেন। তার প্রথম যুক্তিতে বলা হয়— ‘হাইকোর্টের রায় লঙ্ঘন করে নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনাল ভুলভাবে আর্জি সংশোধন মঞ্জুর করেছে।’
জবাবে ইশরাক বলেন, “আর্জি সংশোধন পুরোপুরি সিভিল প্রসিডিউর কোডের অর্ডার ৬ রুল ১৭ অনুযায়ী বৈধ। এখানে কোনো রায় লঙ্ঘনের প্রশ্নই আসে না। উপদেষ্টা হয়ত জানেন না, অবজারভেশন আইনের চেয়ে বড় নয়।”
দ্বিতীয় পয়েন্টে উপদেষ্টা দাবি করেন, একপক্ষীয় রায়ের মাধ্যমে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
ইশরাক বলেন, “মামলার বিপক্ষে তাপস নিজে অংশ নিয়েছেন, জবাব দিয়েছেন এবং মামলাটি বহুদিন হাইকোর্টে স্থগিত ছিল। সুতরাং এটি একতরফা রায় নয়, বরং বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গেজেট জারি হয়েছে।”
তৃতীয়ত, নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের আগেই রাত ১০টায় গেজেট প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এর উত্তরে ইশরাক বলেন, “কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, তাদের নিজস্ব আইনজীবীরা থাকলেও অধিকতর নিশ্চিত হতে আইন উপদেষ্টার মতামত চায়। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে তারা রাত ১০টায় গেজেট দেয়। আর যারা লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে, তারা ঢাকা দক্ষিণের ভোটারও নন।”
চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, মামলায় স্থানীয় সরকার বিভাগ কোনো পক্ষ ছিল না এবং রায়ে তাদের প্রতি কোনো নির্দেশও নেই।
ইশরাকের জবাব, “স্থানীয় সরকার বিভাগ কখনও পক্ষ হয় না। তাদের দায়িত্ব হলো নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা। উপদেষ্টার এই বক্তব্য তার অজ্ঞতা প্রকাশ করে।”
পঞ্চম পয়েন্টে বলা হয়, শপথ না দেওয়ার কারণে রিট দায়ের হয়েছে, যা বিচারাধীন।
জবাবে ইশরাক বলেন, “রিট চলমান থাকলেই শপথ বন্ধ হয়ে যাবে— এমন ধারণা হাস্যকর। এভাবে তো কোনো মামলার শুনানির আগেই কার্যক্রম থেমে যাবে।”
ষষ্ঠ পয়েন্টে আসিফ মাহমুদ বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদাহরণ টেনে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ আনেন।
ইশরাক বলেন, “বরিশাল সিটি নিয়ে যে মামলা হয়েছিল তা সময়সীমা পার হয়ে করা হয়, তাই তা খারিজ হয়েছে। এখানে কোনো দ্বিমুখী অবস্থান নেই।”
সপ্তম পয়েন্টে বলা হয়, মেয়াদ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি রয়েছে।
ইশরাকের উত্তর, “শিশুসুলভ যুক্তি। শপথ নেওয়ার পর মেয়াদ গণনার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দারস্থ হব।”
অষ্টমত, উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে আইনি জটিলতা না থাকলে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে, অথচ বিতর্কিত রায় ও রিট বিচারাধীন থাকা সেই জটিলতাই।
ইশরাক বলেন, “কমিশনের চিঠির জবাবে স্থানীয় সরকার বিভাগ উল্টো কমিশনকে জিজ্ঞেস করে কেন তারা আপিল করেনি। এতে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।”
নবম পয়েন্টে বলা হয়, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে।
ইশরাকের বক্তব্য, “তারা নিজেরাই জটিলতা সৃষ্টি করছে। এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে, যাতে আমি শপথ নিতে না পারি।”
দশম ও শেষ পয়েন্টে আসিফ বলেন, আওয়ামী আমলের ‘অবৈধ’ নির্বাচনগুলোকে বৈধতা দেওয়ার বিতর্ক উঠছে।
ইশরাকের চূড়ান্ত জবাব, “আমরা তাপসের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে আইনিভাবে জয়ী হয়েছি। আওয়ামী আমলের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করার কিছু নেই, আদালত আমাকে মেয়র ঘোষণা করেছে। এটিই বাস্তবতা।”
গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে আলোড়ন তুলেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এখন দেখার বিষয়, আইন ও প্রশাসনের এই দড়ি টানাটানির শেষ কোথায় গিয়ে ঠেকে।