বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের পর নিজের প্রশাসন সাজানোর কাজ শুরু করেছেন। তাঁর এই নতুন প্রশাসনে ঠাঁই পাচ্ছেন তার ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তিত্ব, তাদের মধ্যে অন্যতম তুলসী গ্যাবার্ড। ট্রাম্প তাঁকে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে, এমনকি ট্রাম্পের নিজ দলের রিপাবলিকান পার্টির কিছু সদস্যও তার ওপর ক্ষুব্ধ।
তুলসী গ্যাবার্ডের বয়স ৪৩ বছর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হিন্দু কংগ্রেস সদস্য। ২০১৩ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট পার্টির প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে পরে সরে দাঁড়ান। দুই বছর পর ২০২২ সালে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টি ছেড়ে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন সেবা করেছেন এবং ইরাক ও কুয়েত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
২০২৩ সালের আগস্টে তুলসী আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের হয়ে কাজ শুরু করেন। পরের মাসে, অক্টোবরে, নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন।
I can no longer remain in today’s Democratic Party that is now under the complete control of an elitist cabal of warmongers driven by cowardly wokeness, who divide us by racializing every issue & stoke anti-white racism, actively work to undermine our God-given freedoms, are… pic.twitter.com/oAuTnxZldf
— Tulsi Gabbard 🌺 (@TulsiGabbard) October 11, 2022
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দায়িত্ব
জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক যুক্তরাষ্ট্রের ইনটেলিজেন্স কমিউনিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন এবং জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কাউন্সিলকে পরামর্শ দেন। ইনটেলিজেন্স কমিউনিটির প্রধান হিসেবে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী দপ্তর তার অধীনে থাকবে, যার মধ্যে সিআইএ, এফবিআই, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, মহাকাশবাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়েছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর এই পদটি তৈরি করা হয়। ২০০৫ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রথম এ পদে নিয়োগ দেন। বর্তমানে, এভ্রিল হেইনস ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে এই পদে রয়েছেন। যদি তুলসী গ্যাবার্ড নিয়োগ পান, তবে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক।
তুলসীর গোয়েন্দা বিষয়ক অভিজ্ঞতা
তুলসী গ্যাবার্ডের সরাসরি গোয়েন্দা সংক্রান্ত কোনো অভিজ্ঞতা নেই। গত কয়েক বছরে যারা জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক পদে ছিলেন, তারা অধিকাংশই উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার ভূমিকা পালন করেছেন, তবে তুলসী কংগ্রেসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাজের সমালোচনা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সজাগ ছিলেন। তুলসী মনে করেন, অন্য দেশে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ হওয়া উচিত।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করে। তিন দিন পর তুলসী এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের ‘ভূরাজনীতি থেকে দূরে থাকা উচিত’। তার মতে, ইউক্রেনকে একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত এবং ন্যাটো সদস্য না হওয়াই উত্তম। তিনি দাবি করেন যে, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বহু জৈব–গবেষণাগার তৈরি হয়েছে, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্র বা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেন রিপাবলিকান সদস্যরা, যেমন অ্যাডাম কিনজিঞ্জার ও মিট রমনি।
সিরিয়া যুদ্ধ
২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। তুলসী এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র নয়, সিরিয়ার জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।”
ইরান ও সোলাইমানি হত্যাকাণ্ড
২০১৯ সালে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে, তুলসী সেটি এক অনুচিত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করেন। তার মতে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কোনো উন্নতি হয়নি।
ভারত সম্পর্ক
তুলসী গ্যাবার্ডের ভারত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন এবং ২০১৯ সালের প্রবাসী ভারতীয় দিবসে ভারতের উত্তর প্রদেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গোয়েন্দা পরিচালকের পদে বিতর্ক
তুলসী গ্যাবার্ডের নিয়োগ নিয়ে কংগ্রেসে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য অ্যাবিগালি স্প্যানবার্গার বলছেন, তুলসী এই পদটির জন্য যোগ্য নন এবং তিনি স্বৈরশাসকদের ঘনিষ্ঠ। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ক্যানসিয়ানও মনে করেন যে, তুলসী গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে যোগ্যতা পূর্ণ করতে পারেন না, তবে এই নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।