বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন
ট্রাম্প বললেন, ‘অস্ত্র পাঠাব—আরও জোরে, আরও দূরে!’
অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধ যেন নতুন মোড় নিচ্ছে! আবারও অস্ত্র পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক অভিজাত নৈশভোজে, যেখানে তার সঙ্গে ছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ঠিক সেখানেই ট্রাম্পের মুখ থেকে আসে বিস্ফোরক ঘোষণা। খবর গণমাধ্যম-এর।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এবার আরও কিছু শক্তিশালী অস্ত্র পাঠাচ্ছি ইউক্রেনে। এটি এখন আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেন মারাত্মক হামলার শিকার।’
গত সপ্তাহে তার প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত কিছু সামরিক সরঞ্জাম সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয় ওয়াশিংটন রাজনীতিতে। তবে এবার ট্রাম্পের মুখে নতুন প্রতিশ্রুতি আসায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে বড় রকমের ‘পলিসি শিফট’ হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি বলেন, ‘আমরা আমেরিকার নিরাপত্তা এবং স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ অন্যদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, ‘রক্তপাত বন্ধ ও একটি স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে আমরা ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষামূলক আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করব।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির আলোকেই এমন সহায়তার মূল্যায়ন করছে।
ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলেছেন, ‘প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এখন ইউক্রেনের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় ‘গভীর হতাশা’ও ব্যক্ত করেছেন।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের পাশে অন্যতম শক্ত মিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ড্রোন, রকেট লঞ্চার, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, রাডার, ট্যাংক ও অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল—সবই পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই সাহায্যের কারণে মার্কিন অভ্যন্তরে অস্ত্র মজুদের ওপর চাপ ও জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
চলতি বছরের মার্চে ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে এক উত্তপ্ত বৈঠকের পর সাময়িকভাবে সামরিক সহায়তা বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় সহায়তা চালু করে। এবার নতুন করে ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প যেন সেই অবস্থানকে আরও ‘স্পষ্ট ও আগ্রাসী’ করলেন।