শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
আচমকা জিহ্বার নিচে ফোলা কি বিপদের ইঙ্গিত? সতর্ক হোন আজই!
অনলাইন ডেস্ক
জিহ্বার নিচে হঠাৎ করেই যদি একটা থলির মতো নরম ফোলাভাব লক্ষ্য করেন, তাহলে সেটা হতে পারে রেনুলা—একটি মিউকাসপূর্ণ সিস্ট, যেটা ছোট মনে হলেও বড় জটিলতার কারণ হতে পারে। মুখের মেঝেতে থাকা সাবলিঙ্গুয়াল লালাগ্রন্থির নালিতে আঘাত লাগলে এমন সিস্ট গড়ে ওঠে, যার ভেতর জেলির মতো তরল জমা হতে থাকে।
রেনুলা কীভাবে তৈরি হয়?
মুখে ক্ষুদ্র কোনো আঘাত বা চাপের কারণে লালাগ্রন্থির নালিগুলো যখন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, তখন মিউকাস জমা হয়ে ধীরে ধীরে সিস্ট তৈরি হয়। এটি সাধারণত মুখের মেঝেতে, জিহ্বার নিচে ফেনুলামের এক পাশে গোল, মসৃণ ও নীলাভ ফোলা আকারে দেখা যায়। ব্যথাহীন হলেও বড় হয়ে গেলে খাবার গিলতে কিংবা কথা বলতে সমস্যা করে।
কাদের বেশি হয়?
শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়, তবে যেকোনো বয়সেই হতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন রেনুলা আছে?
ফোলা হয়তো খুব স্পষ্ট হবে না, তবে তা নড়াচড়া করে, ব্যথা থাকে না। ফ্লাকচুয়েশন টেস্ট করলে এটি ধরা পড়ে। সাধারণত গলার লিম্ফ নোড ফুলে না। তবে যদি মুখের ভেতরে ফোলা না দেখা যায় কিন্তু ঘাড়ে ফোলাভাব থাকে, তাহলে সেটি হতে পারে ডাইভিং রেনুলা—যেটা আরও গভীর ক্ষতের ইঙ্গিত।
রেনুলার চিকিৎসা কী?
ছোট হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থি সরিয়ে দেওয়া হয়। বড় হলে মার্সুপিয়ালাইজেশন পদ্ধতিতে মুখগহ্বরের সঙ্গে পুনঃসংযোগ করানো হয়। তবে পাতলা আবরণ থাকায় অপারেশন সবসময় সম্ভব হয় না।
ঝুঁকি কী?
বারবার সংক্রমণ, বড় আকারের সিস্ট হয়ে খাবার গিলতে ও কথা বলতে সমস্যা তৈরি করা, যা মানসিক চাপও বাড়াতে পারে।
সতর্ক হোন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিন। কারণ ছোট ফোলাভাব হতে পারে বড় সমস্যার আগাম বার্তা।