শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
রমজান মাসে ওজন কমানো অনেকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত যখন সেহরি ও ইফতারে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যায়। তবে কিছু সাধারণ ভুলের কারণে অনেকেরই রোজার মাসে ওজন কমে না, বরং বেড়ে যায়। আসুন, এসব ভুলের কথা বিস্তারিত জানি এবং সেগুলি থেকে কীভাবে বাঁচা যায় তা জানব।
তেলে ভাজা খাবার
রমজানে অনেকেই ইফতারে তেলে ভাজা খাবার খান। যেমন- পচুর তেলে ভাজা আলু, বেগুনি, মাংস ইত্যাদি। একটি সাধারণ উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১০০ গ্রাম আলু যদি তেলে না ভাজা হয়, তবে এতে থাকে মাত্র ৯৩ ক্যালোরি, কিন্তু তেলে ভাজার ফলে তার ক্যালোরি বাড়ে প্রায় ৩১২ ক্যালোরিতে। ভাজাপোড়া খাবারের কারণে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়তে পারে এবং ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাকের মতো ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই তেলে ভাজা খাবার কম খাওয়াই ভালো।
মিষ্টি খাবার ও পানীয়
রমজানে ইফতারে অনেক সময় মিষ্টি খাবার যেমন জিলাপি, বুরিন্দা বা কোমল পানীয় যেমন কোক, স্প্রাইট ইত্যাদি খাওয়ার প্রবণতা থাকে। এসব খাবারের কারণে অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্তে সুগারের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে শরীর চর্বি জমিয়ে রাখে এবং ওজন বাড়ানোর অন্যতম কারণ হতে পারে।
অতিরিক্ত খাবার খাওয়া
রোজা রাখার পর শরীরে ক্ষুধা এবং তৃষ্ণা থাকে, তাই অনেকেই ইফতার বা সেহরিতে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। তবে, অতিরিক্ত খাবার খেলে যে পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ হয়, তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ফলে, ওজন বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দেয়। সেহরি এবং ইফতার উভয় সময়ই পরিমাণমতো খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
দ্রুত খাবার খাওয়া
রমজানে অনেকেই খাবার দ্রুত খেয়ে ফেলেন। কিন্তু দ্রুত খাবার খাওয়ার ফলে পাকস্থলি পূর্ণ হওয়ার সিগন্যাল মস্তিষ্কে পৌঁছাতে কিছু সময় লাগে, প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট। ফলে খাবার দ্রুত খাওয়ার ফলে আমরা বুঝতে পারি না যে আমাদের পেট কতটুকু ভরে গেছে এবং বেশি খেয়ে ফেলি। এ কারণে যারা দ্রুত খাবার খান, তাদের ওজন বাড়ানোর সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়।
অলসতা এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
রমজানে অনেকেই অলস হয়ে পড়ে এবং শারীরিক পরিশ্রম কম করে। কিন্তু শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীর ফ্যাট পুড়তে পারে না এবং ওজন কমানো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাই রোজার সময় হাঁটাহাঁটি বা সহজ ব্যায়াম করা উচিত, যাতে শরীরের ফ্যাট পোড়ে এবং ওজন কমানো যায়।
এইসব ভুল অভ্যাস থেকে যদি রোজায় বাঁচা যায় এবং সচেতনভাবে খাবার গ্রহণ ও শারীরিক পরিশ্রম বজায় রাখা যায়, তবে রমজান মাসে সুস্থভাবে ওজন কমানো সম্ভব।