রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
সাদিকা জাহান
শুধু ইউরিক এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেই পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয় না। এর পিছনে আরো অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন, ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাড সুগারের সমস্যা থাকলেও পায়ে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি ডায়াবেটিসের মাত্রা বেশি হয়, তাহলে পা ফুলে যেতে পারে। ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে পায়ের গোড়ালির অংশে ফুলে গিয়ে তীব্র যন্ত্রণা সৃষ্টি হতে পারে, তবে ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে মূলত পায়ের পাতা ফুলে যায়। হাই ব্লাড সুগারের সরাসরি প্রভাব পড়ে কিডনির ওপর, যার ফলে শরীর থেকে টক্সিন বের হতে পারে না। কিডনি যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তাহলে শরীরের ভেতর দূষিত পদার্থ জমে গিয়ে পায়ের পাতায় ফ্লুইড জমে ফুলে যেতে পারে।
হাই ব্লাড সুগারের কারণে পায়ের সমস্যা আরো বাড়তে পারে। হাঁটার সময় অনেক সময় আমরা পায়ে অস্বস্তি অনুভব করি, যা অবহেলা করা উচিত নয়। যারা নিয়মিত হাঁটতে যান, তাদের মাঝে যদি হাঁটতে হাঁটতে হাঁটুতে ঝিনঝিন ভাব বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে এটি ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে। এমন অস্বস্তি এতটাই বৃদ্ধি পেতে পারে যে হাঁটা বন্ধ করে দিতে হয়।
এছাড়া, হাঁটার পর যদি প্রচন্ড ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে বুঝতে হবে এটি হাই ডায়াবেটিসের কারণে হতে পারে। ডাক্তাররা হাঁটাহাঁটির পরামর্শ দেন, কিন্তু যদি হাঁটতে গিয়ে কোনো সমস্যা হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হাই ব্লাড সুগারের পাশাপাশি হাই প্রেশার থাকলেও হাঁটতে গিয়ে হাঁটু বা পায়ে ঝিনঝিন ভাব হতে পারে, কারণ দুই ক্ষেত্রেই স্নায়ু দুর্বল হয়ে যায়।
হাই ব্লাড সুগারের কারণে ধমনীতে রক্ত এবং অক্সিজেনের সঠিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, ফলে মাসল ক্র্যাম্প বা পেশিতে টান ধরতে পারে। হাঁটার সময় পা ভারী হয়ে যাওয়াও একটি লক্ষণ হতে পারে। এই সমস্যাগুলো অবহেলা না করে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এখন সময় এসেছে, শরীরের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়া, বিশেষত পা এবং হাঁটাচলার সমস্যাগুলো না দেখার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার। ডায়াবেটিস ও হাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব, তবে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ এবং সুস্থ খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা জরুরি।