সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
রমজানের শুরুতে আবহাওয়া ছিল বেশ স্বস্তিদায়ক, তবে সময়ের সাথে সাথে তাপমাত্রা বাড়ছে। রোজায় দীর্ঘ সময় উপবাসের পর ইফতারে এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানীয় শরীরে এনে দেয় প্রশান্তি। তবে ঠাণ্ডা পানীয় বেছে নেওয়ার সময় সচেতন থাকতে হবে যেন তা শুধু আরামদায়ক নয়, স্বাস্থ্যকরও হয়। এর মধ্যে বেলের শরবত একটি আদর্শ ও জনপ্রিয় পানীয়।
বেলের শরবত শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী। ইফতারে ঠাণ্ডা বেলের শরবত শুধু তৃষ্ণাই মেটায় না, বরং দীর্ঘ রোজার পর ক্লান্ত দেহে এনে দেয় সতেজতার পরশ। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য, আলসার, ডায়াবেটিস এবং আর্থরাইটিসের ব্যথা উপশমে বেল বিশেষ ভূমিকা রাখে।
বেল খেতে অনেকেই অনাগ্রহী থাকেন, তবে শরবত হিসেবে বেল খাওয়ার অভিজ্ঞতা একেবারে ভিন্ন। ঠাণ্ডা ও সুস্বাদু বেলের শরবত যে কোনো রোজাদারের তৃষ্ণা নিবারণ করতে সক্ষম। তাই যারা কাঁচা বেল খেতে পছন্দ করেন না, তারাও এই শরবত খেয়ে উপভোগ করতে পারেন।
প্রথমে বেলটি ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এরপর বেলের গর সমান করে চটকে নিন। ঠাণ্ডা পানিতে বেলের গর মিশিয়ে ভালোভাবে মেখে নিন। এরপর একটি বড় ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। ছেঁকে নেওয়া পানিতে টক দই, চিনি, বিট লবণ ও লেবুর রস মিশিয়ে নিন।
শরবতটি ঠাণ্ডা করতে বরফ কুঁচি যোগ করুন। পরিবেশনের আগে উপরে পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে দিন।
গরমের তাপমাত্রায় শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে বেলের শরবত অত্যন্ত উপকারী। এতে পর্যাপ্ত পানি থাকে যা দেহের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে। বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ও অম্বল দূর করতে সহায়ক।
শরবতে থাকা প্রচুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং ব্রণ প্রতিরোধে কার্যকর। তাছাড়া ক্যালরির মাত্রা কম থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
রমজানের ইফতারে প্রতিদিন এক গ্লাস ঠাণ্ডা বেলের শরবত আপনার শরীরকে শুধু সতেজ রাখবে না, বরং দেহের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষাও নিশ্চিত করবে। তাই প্রতিদিন ইফতারের টেবিলে রাখুন স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু বেলের শরবত।