শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
রোজা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও জ্ঞানসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। এটি কেবল আত্মশুদ্ধির মাধ্যম নয়, বরং মানুষের আধ্যাত্মিক অগ্রগতি ও সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। এছাড়া, রোজার রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা, যা আমাদের দেহের ভেতরে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায় এবং সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজের এডেনব্রুকস হাসপাতালের ‘অ্যানেসথেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন’ বিভাগের কনসালট্যান্ট ড. রাজিন মাহরুফ জানান, রমজান মাসে রোজা রাখার ফলে দেহে নানা শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
খাবার গ্রহণের পর থেকে প্রথম আট ঘণ্টা শরীরে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। এই সময়ের মধ্যে খাদ্য সম্পূর্ণ হজম হয় এবং এর পুষ্টি শোষিত হয়। এরপর শরীর শক্তির জন্য যকৃত ও পেশিতে সংরক্ষিত গ্লুকোজ ব্যবহার করতে শুরু করে।
যখন শরীর এই গ্লুকোজের মজুত শেষ করে, তখন এটি শক্তির জন্য চর্বি পোড়ানো শুরু করে। ফলে ওজন কমতে থাকে, কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়। তবে এই সময় কিছুটা দুর্বলতা ও ঝিমুনি অনুভূত হতে পারে। কয়েকদিন পর দেহ যখন অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন চর্বি গলে তা রক্তে শর্করায় রূপান্তরিত হয়, যা শক্তি যোগায়।
এই পর্যায়ে শরীর ও মন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, ফলে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভালো অনুভূত হয়। ড. মাহরুফের মতে, প্রতিদিন আমরা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে দেহের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করি। তবে রোজার কারণে শরীর তার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে সক্ষম হয়।
উদাহরণস্বরূপ, রোজা শরীরের ভেতরে সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং আঘাত সারানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তাই রোজা শুধুমাত্র ধর্মীয় দিক থেকে নয়, শারীরিক সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত কার্যকর।
এই পর্যায়ে শরীর সম্পূর্ণভাবে রোজার সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরে পায়। ড. মাহরুফ বলেন, ‘‘এ সময় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের উন্নতি ঘটে এবং শরীর বেশি সক্রিয় ও চাঙা অনুভব করে।’’
সুতরাং, রোজা কেবল আত্মশুদ্ধি এবং ধর্মীয় অনুশীলন নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী একটি অভ্যাস, যা আমাদের শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করে।