শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন
হাড় ব্যথাকে বয়সের দোষ ভাবছেন? সাবধান! হতে পারে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর ক্যানসারের ইঙ্গিত—জেনে নিন ‘মাল্টিপল মায়েলোমা’র সব ভয়াবহ দিক।
অনলাইন ডেস্ক
বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ে ব্যথা, দুর্বলতা বা ক্লান্তি যেন আমাদের জীবনের স্বাভাবিক অংশ! কিন্তু জানেন কি, এর পেছনে থাকতে পারে একটি নীরব অথচ প্রাণঘাতী ক্যানসার—মাল্টিপল মায়েলোমা। এই রোগটি প্লাজমা সেল নামের একধরনের শ্বেত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে, যেগুলো শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক।
প্লাজমা সেল সাধারণত অ্যান্টিবডি তৈরি করে সংক্রমণ রোধে কাজ করে। কিন্তু যখন এ কোষগুলো ক্যানসারে রূপ নেয়, তখন অপ্রয়োজনীয় একধরনের প্রোটিন (এম প্রোটিন) তৈরি করতে শুরু করে, যা দেহে ছড়িয়ে বিভিন্ন অঙ্গকে নষ্ট করতে থাকে। ক্যানসারটি সাধারণত অস্থিমজ্জায় শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে সুস্থ রক্তকণিকাগুলোকে প্রতিস্থাপন করে।
কীভাবে বুঝবেন আপনি আক্রান্ত?
এই রোগের লক্ষণগুলো শুরুতে সাধারণ মনে হতে পারে। হাড়ের ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বারবার ইনফেকশন, বা কিডনি সমস্যা—এসব উপসর্গ ধীরে ধীরে বাড়ে। অনেকেই দেরি করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, ভাবেন বয়সজনিত সমস্যা। অথচ সময়মতো সনাক্ত হলে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
রোগ শনাক্তে প্রয়োজন কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষা—রক্তের প্রোটিন ইলেকট্রোফোরেসিস, প্রস্রাবে ‘বেনস জোনস’ প্রোটিন, অস্থিমজ্জা বায়োপসি, এক্স-রে বা এমআরআই এবং ক্যালসিয়াম-ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বিশ্লেষণ। উন্নত ক্ষেত্রে ফ্লো সাইটোমেট্রি ও মলিকুলার টেস্টেও নির্ণয় করা হয়।
চিকিৎসা? এখন অনেক পথ খোলা
কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট—চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে রোগের ধাপ ও রোগীর অবস্থা অনুযায়ী। বর্তমানে বহু রোগী ‘রেমিশন’ পর্যায়ে থেকে সুস্থ জীবনযাপন করছেন।
বাংলাদেশে এই রোগ সম্পর্কে জানাশোনা এখনও সীমিত। সচেতনতার অভাবে রোগীরা অনেক সময় দেরি করে হাসপাতালে যান। তবে ভালো খবর হলো—দেশে এখন আধুনিক হেমাটোলজি সুবিধা, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক থেরাপি রয়েছে।
সতর্ক থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন
৫০ বছরের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। হাড়ের ব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি হলে রক্ত পরীক্ষা করান। মনে রাখবেন, মাল্টিপল মায়েলোমা ভয়ংকর হলেও প্রতিরোধযোগ্য নয়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সচেতন থাকলেই জীবন হতে পারে সুস্থ ও সম্মানজনক।