শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন
বয়স বাড়লেই কি হাঁটুব্যথা মেনে নিতে হবে? মোটেও না
অনলাইন ডেস্ক
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবন যেন ধীরে ধীরে গতি হারায়, আর সেই গতির পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় হাঁটুব্যথা। ৬০ পার করলেই যেন হাঁটুতে ব্যথা হানা দেয় একেবারে স্থায়ী অতিথির মতো। গবেষণা বলছে, প্রতি চারজনের একজন প্রবীণ এই যন্ত্রণায় নাকাল। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ব্যথা কি এড়ানো যায় না? চলুন, খুঁজে দেখা যাক কারণ ও করণীয়।
প্রথমেই জানা দরকার, বয়স্কদের হাঁটুব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ ‘অস্টিওআর্থ্রাইটিস’। বয়স বাড়লে হাঁড়ের গঠন দুর্বল হয়, জয়েন্টের তরল কমে যায়, হাড়ে ঘষাঘষি বাড়ে, আর শুরু হয় অবিরাম ব্যথা। যাঁদের ওজন বেশি, তাঁদের সমস্যা হয় দ্বিগুণ।
তবে শুধু অস্টিওআর্থ্রাইটিসই নয়, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গাউট, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস এমন নানা রকম বাতও এই যন্ত্রণার নেপথ্যে থাকতে পারে। কেউ কেউ আবার হঠাৎ আঘাত পেলে বা হাড়ের সংক্রমণে আক্রান্ত হলেও হাঁটুব্যথায় কষ্ট পান। এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে এটা হতে পারে হাড়ের ক্যানসারের ইঙ্গিতও!
এই যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করতে গেলে সময় ও সচেতনতা দরকার। যদি ব্যথা নতুন হয় এবং ৬ সপ্তাহের কম সময় ধরে থাকে, তাহলে তা অ্যাকিউট পেইন। সংক্রমণের কারণে হলে সঙ্গে জ্বরও আসতে পারে—এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। আর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হলে সেটা বয়সজনিত বাতের লক্ষণ।
এখন করণীয় কী? প্রথমেই নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করুন। হ্যাঁ, ব্যথা থাকা অবস্থাতেও হাঁটতে হবে—তবে সমতল জায়গায়। সপ্তাহে তিনদিন অন্তত ৩০–৪০ মিনিট করে হাঁটুন। ট্রেডমিল, দৌড়, বা সিঁড়িতে ওঠানামা নয়—এগুলো হাঁটুর জন্য ক্ষতিকর।
‘তাই চি’ নামের এক ধরনের ব্যায়াম ভারসাম্য ও পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। সঙ্গে বরফ দিয়ে ১৫ মিনিট করে সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়। বরফ কিন্তু সরাসরি নয়—পাতলা কাপড়ে মুড়ে নিন।
ওজন বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। প্রয়োজনে ব্যথানাশক মলম বা ওষুধ খেতে পারেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে। যদি হাঁটুর ব্যথার সঙ্গে জ্বর, লালভাব, ফুলে যাওয়া কিংবা হাঁটুর ওপর ওজন নিতে না পারার মতো উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিন।
স্মরণ রাখুন—বয়স মানেই যন্ত্রণার সঙ্গে আপস নয়। সচেতনতা আর সঠিক পদক্ষেপ নিলেই হাঁটুব্যথাকে বলা যায় ‘গুডবাই’!