শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
স্বাস্থ্যের নামে কি প্রতারণা চলছে? কর্টিসল ককটেল কি সত্যিই কাজ করে?
অনলাইন ডেস্ক
পাশ্চাত্যের ট্রেন্ড মানেই কি আমাদের জন্য ভালো? কর্টিসল ককটেল নামের এক অভিনব পানীয় এখন রীতিমতো ভাইরাল! বলা হচ্ছে, এই পানীয় খেলে শরীর থেকে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন কমে যায়, মন চনমনে থাকে, এমনকি ওজনও নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু আদতে কি এমন কিছুই ঘটে?
কর্টিসল ককটেল আসলে কী?
কর্টিসল ককটেল মূলত তিনটি উপাদানে তৈরি—ডাবের পানি, কমলার রস আর লবণ। কেউ কেউ এতে অ্যাডাপ্টোজেন, ম্যাগনেসিয়াম পাউডার বা অন্য কিছু স্বাস্থ্যকর উপাদানও মেশান। পুষ্টিগত দিক দিয়ে অবশ্যই এটি হাইড্রেটিং ও মিনারেলসমৃদ্ধ একটি পানীয়। ডাবের পানিতে পটাশিয়াম, কমলার রসে ভিটামিন সি আর লবণে রয়েছে সোডিয়াম—এই তিনটি উপাদান শরীরকে সজীব রাখতে সাহায্য করে।
আসলেই কি কর্টিসল কমে যায়?
এত গুণকীর্তনের মাঝেও একটা বড় প্রশ্ন থেকেই যায়—এই পানীয় কি সত্যিই কর্টিসল হরমোন কমায়? পাশ্চাত্যের বেশ কয়েকটি গবেষণা বলছে, না। এখন পর্যন্ত এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে কর্টিসল ককটেল মানসিক চাপ কমাতে পারে।
ওজন কমানোর গল্প কতটা সত্য?
এটি ওজন কমানোর কোনো জাদুকরী পানীয় নয়। বরং চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বা ক্যান পানীয়ের পরিবর্তে এই ককটেল খাওয়া তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে ওজন কমাতে হলে কেবল একটি পানীয় নয়, প্রয়োজন পুরো জীবনধারায় পরিবর্তন।
সতর্কতা জরুরি
কর্টিসল ককটেলে লবণ থাকায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদ্রোগে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তীব্র ঘামের সময় একবার-দুবার খাওয়ায় সমস্যা না হলেও নিয়মিত গ্রহণ স্বাস্থ্যহানিকর হতে পারে।
তাহলে কর্টিসল ককটেল খাওয়া কি উচিত?
যদি আপনি পুরোপুরি সুস্থ থাকেন, তখন মাঝে মাঝে এই পানীয় খাওয়া যেতে পারে—তাও বাড়িতে তৈরি করে, চিনি ছাড়া। কিন্তু এটিকে ‘স্ট্রেস কমানোর জাদু পানীয়’ ভাবলে ভুল করবেন। শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন ব্যালেন্সড ডায়েট, ঘুম, পানি ও মানসিক প্রশান্তি। ট্রেন্ডের পেছনে না ছুটে বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করুন।