শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
নিশ্ছিদ্র ঘুম: স্বাস্থ্যের জন্য কতটা জরুরি?
ঘুম আমাদের শরীর ও মনের জন্য একটি স্বাভাবিক ও অপরিহার্য প্রক্রিয়া, যা শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। যখন আমরা ঘুমিয়ে পড়ি, তখন আমাদের শরীর পুনর্গঠিত হয়, কোষ মেরামত করে এবং মস্তিষ্ক বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে। ঘুমের সময় হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি কমে যায়, পেশীগুলো শিথিল হয় এবং চিন্তাশক্তির গতি মন্থর হয়ে পড়ে।
অনেকে বিছানায় গিয়েই ঘুমিয়ে পড়েন, আবার অনেকের জন্য ঘুম আসতে সময় লাগে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা মাত্র পাঁচ মিনিট বা তারও কম সময়ে ঘুমিয়ে পড়েন, তাদের মধ্যে ঘুমের ঘাটতির একটি গুরুতর সমস্যা থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব নির্দেশ করতে পারে, যা শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্লিপ হেলথ ফাউন্ডেশন সুপারিশ করে, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। তবে অনেকেরই পর্যাপ্ত ঘুম হয় না, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন ঘুমের অভাবে ভোগেন। দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের অনিয়ম হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও আলঝাইমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমিয়ে পড়তে যে সময় লাগে, তা স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দেয়। পাঁচ মিনিটের কম সময়ে ঘুমিয়ে পড়া শরীরের অতিরিক্ত ক্লান্তি বা স্লিপ ডেফিসিয়েন্সির লক্ষণ হতে পারে। স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য ৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া স্বাভাবিক ধরা হয়।
অস্বাভাবিক দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া নারকোলেপসি নামক ঘুমজনিত রোগের লক্ষণও হতে পারে। অন্যদিকে, যদি ২০-৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগে ঘুম আসতে, তবে তা অনিদ্রার ইঙ্গিত দেয়। যদি ঘুমজনিত সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অতিরিক্ত শব্দ, মোবাইল ও টিভির স্ক্রিনের নীল আলো, কৃত্রিম আলোর প্রভাব এবং দুশ্চিন্তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এছাড়া, ধূমপান, মাদকাসক্তি বা শারীরিক অনুশীলনের অভাব অনিদ্রার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যদি ঘুম আসতে দেরি হয় বা পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তবে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা, প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকা এবং আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করাও সহায়ক হতে পারে।