শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
ঠান্ডা লাগা বা সর্দি হওয়া আমাদের জন্য খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে কোনো সময় এটি দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটি দ্রুত সেরে যায়, আবার অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা-সর্দির প্রকোপ বাড়তে থাকে। যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এটি আরও বেশি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য তাপমাত্রার পরিবর্তন ও বায়ুদূষণের কারণে এ ধরনের সংক্রমণ তাদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ঠান্ডা-সর্দির কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে, যা শিশু ও বড়দের মধ্যে একইরকম দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, সর্দি পড়া, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা, কাশি, হাঁচি, জ্বর, কানে ও মুখে চাপ অনুভব করা এবং স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভূতি হ্রাস পাওয়া।
বিশ্বব্যাপী অন্যতম সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার একটি হলো ঠান্ডা-সর্দি। এটি মূলত ভাইরাস সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে। একসময় ধারণা করা হতো, মাত্র একটি ভাইরাসের কারণেই সর্দি হয়। কিন্তু আশির দশকের পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, মূলত সাতটি গোত্রের ভাইরাস এই রোগের জন্য দায়ী।
শীতের সময় এ ভাইরাসগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ পায়। এ সময় সর্দির জীবাণু নাসারন্ধ্রের মিউকাস লাইনিং অতিক্রম করে সংক্রমণ ঘটায়, যার ফলে নাকের ভেতরে অতিরিক্ত সর্দি জমা হয়। চিকিৎসা পরিভাষায় একে ‘রাইনোরেয়া’ বলা হয়।
সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই ঠান্ডা-সর্দি সেরে যায়। তবে কিছু ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব। আসুন, দেখে নেওয়া যাক কার্যকর কিছু উপায়—
সর্দির সমস্যায় গরম পানির ভাপ বা স্টিম ইনহেল করা উপকারী হতে পারে। সমস্যা বেশি হলে দিনে ২-৩ বার এটি নিতে পারেন। বিশেষ করে সাইনোসাইটিস রোগীদের জন্য এটি কার্যকর, কারণ এতে নাকের সর্দি পাতলা হয়ে সহজে বের হয়ে আসে।
আদা, কাঁচা হলুদ, গোলমরিচ, তেজপাতা, লবঙ্গ ও মেথি একসঙ্গে ফুটিয়ে নিন। পানি অর্ধেক হয়ে এলে নামিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর অর্ধেক পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এটি খুশখুশে কাশি কমানোর পাশাপাশি ইনফ্লামেশন হ্রাসে সাহায্য করে।
ঠান্ডা-সর্দি দ্রুত নিরাময়ে সারা দিন গরম পানি পান করুন। সেই সঙ্গে আদা ও মধু দেওয়া চা, স্যুপ ইত্যাদি খেতে পারেন। শরীর আর্দ্র রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করাও জরুরি।
গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গার্গল করলে গলার ব্যথা ও সর্দির সমস্যা কমে যায়। প্রতিদিন সকালে ও রাতে গার্গল করলে আরাম পাওয়া যায়।
ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত আমলকী বা লেবুর মতো ফল খেলে সর্দির সমস্যা দ্রুত সেরে যায়।
পেঁয়াজের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান শরীর থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সহায়ক। পেঁয়াজ টুকরো করে তাতে মধু মিশিয়ে সারারাত রেখে দিন। সকালে খালি পেটে এই তরল গ্রহণ করলে উপকার পাওয়া যায়।
তুলসী পাতার ভেষজ গুণ সর্দি-কাশি নিরাময়ে কার্যকর। তুলসী পাতা ও আদা একসঙ্গে ফুটিয়ে নিয়ে তাতে মধু মিশিয়ে চায়ের মতো পান করুন। অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগলে দিনে দুবার পান করুন।
দই, শরবত ও আইসক্রিমের মতো ঠান্ডাজাতীয় খাবার এ সময় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো সর্দির উপসর্গ বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এই সহজ ঘরোয়া উপায়গুলো অনুসরণ করলে দ্রুত ঠান্ডা-সর্দির সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।