বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
কম ঘুমেই বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি, সতর্ক থাকুন এখনই!
অনলাইন ডেস্ক
আমাদের দেহের ভেতরে থাকা জৈবিক ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লকই শরীরের ঘুম, তাপমাত্রা, হরমোন নিঃসরণ, আবেগ, স্মৃতি—সবকিছুর সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রক। এই ঘড়ির ছন্দময় চলার কারণেই আমরা নির্দিষ্ট সময় ঘুমে ঢুলি, জেগে উঠি। কিন্তু এই ছন্দে ব্যাঘাত ঘটলে শরীরে দেখা দেয় মারাত্মক সমস্যা। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, মানসিক ভারসাম্যহীনতা থেকে শুরু করে নাক ডাকা পর্যন্ত—এসবই একরকম ঘুমের গলদ থেকে সৃষ্টি হতে পারে। সঠিক ঘুমের অভাব এমনকি সড়ক দুর্ঘটনা বা সংসার ভাঙনেরও কারণ হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম জীবনধারায় আবশ্যিক।
বয়স অনুযায়ী ঘুম কতটা দরকার? যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ৯ বছরের শিশুদের প্রতিদিন অন্তত ৯-১১ ঘণ্টা, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮-১০ ঘণ্টা, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ৭-৯ ঘণ্টা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম দরকার। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে কম ঘুমেও ভালো থাকা সম্ভব। কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার স্নায়ুবিজ্ঞানী অধ্যাপক ম্যাথিউ ওয়াকার তাঁর বিখ্যাত বই হোয়াই উই স্লিপ-এ বলছেন, ঘুম কম হলে শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।
কম ঘুমের ফল কী? ওয়াকারের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কে স্মৃতি গঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। তাছাড়া, ঘুমের অভাবে জমে যেতে থাকে ‘বিটা অ্যামিলয়েড’ নামের একধরনের ক্ষতিকর প্রোটিন, যা আলঝেইমার রোগের সঙ্গে জড়িত। ঘুমের সময় শরীর এসব বিষাক্ত উপাদান ঝেঁটিয়ে বের করে দেয়, তাই ঘুম না হলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বিষে ভরে ওঠে। তদুপরি, ঘুম কমে গেলে প্রজননতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ দৈনিক পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ঘুমান, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা এতটাই কমে যায় যে তাদের শারীরিক বয়স প্রকৃত বয়সের চেয়ে ১০ বছর বেশি দেখায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রেও ঘুমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র এক রাত চার-পাঁচ ঘণ্টা ঘুমালে শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধী কোষের ৭০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি অন্ত্র, প্রোস্টেট ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এমনকি কম ঘুমের ফলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায় প্রায় ২০০ গুণ।
ঘুম হলো দৈনন্দিন ক্লান্তির বিরুদ্ধে শরীর ও মনের শক্তি সঞ্চয়ের উপায়। ঘুমের সময় দেহের সচেতন প্রতিক্রিয়াগুলো স্তিমিত হয়ে আমাদের পরবর্তী দিনের কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনে। ভালো ঘুম মানে ভালো স্বাস্থ্য—এই সত্যে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
—ডা. মনিলাল আইচ লিটু
অধ্যাপক, ইএনটি অ্যান্ড হেড-নেক সার্জারি
সাধারণ সম্পাদক, অ্যাসোসিয়েশন অব সার্জনস ফর স্লিপ অ্যাপোনিয়া বাংলাদেশ