শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
ঠান্ডা নাকি গরম দুধ? সিদ্ধান্ত নিন বিজ্ঞান অনুযায়ী!
অনলাইন ডেস্ক
দুধ আমাদের খাদ্যাভ্যাসে এক পরিচিত নাম। ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে আসছি—‘দুধ খেলে হাড় শক্ত হয়’, ‘বুদ্ধি বাড়ে’, ‘দেহ ভালো থাকে’। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—দুধ কি আসলেই অতটা উপকারী? আর খেতে হলে—ঠান্ডা না গরম, কোনটা বেছে নেবেন? কখন খেলে সবচেয়ে উপকার?
এই প্রশ্ন একেবারেই বাতুল নয়। কারণ দুধ নিয়ে আজকাল নানা মত ছড়িয়েছে। কেউ গরম দুধের পক্ষে যুক্তি দেন, আবার কেউ ঠান্ডা দুধকেই এগিয়ে রাখেন। তাহলে কোনটা ঠিক?
এ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কলকাতার পুষ্টিবিদ ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের দুধ খাওয়া শ্রেয়।
দুধ মানেই পুষ্টির খনি: দুধ হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ এক অনন্য খাদ্য। এটি শরীর সহজেই গ্রহণ করতে পারে। ফলে নিয়মিত দুধ পানে শরীরে প্রয়োজনীয় ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের চাহিদা পূরণ হয়। এতে ভিটামিন ডি, বি২, এ, ই এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ বহু প্রয়োজনীয় খনিজ রয়েছে। দৈনিক এক গ্লাস দুধ শরীর ও স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে।
গরম না ঠান্ডা—দু’টিই উপকারী: পুষ্টিবিদ ঈশানী জানিয়েছেন, গরম ও ঠান্ডা—উভয় ধরনের দুধই স্বাস্থ্যকর। একজন সুস্থ মানুষ যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে ঠান্ডা দুধ পানের বাড়তি উপকারিতা রয়েছে।
পেটের সমস্যায় ঠান্ডা দুধ: অনেকেই দুধ খেলেই গ্যাস বা অ্যাসিডিটিতে ভোগেন। তারা যদি ঠান্ডা দুধ খান, তবে এ সমস্যা কমে আসে। এমনকি ঠান্ডা দুধের ক্যালসিয়াম শরীরে আরও ভালোভাবে শোষিত হয়। তাই এমন অবস্থায় ঠান্ডা দুধই বেশি কার্যকর।
প্রতিদিন কতটা খাবেন? একজন সুস্থ ব্যক্তি প্রতিদিন ২৫০ মিলিলিটার দুধ খেতে পারেন। এতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ হবে। এছাড়া নিয়ম করে দই, পনির, ছানা ইত্যাদি দুগ্ধজাত খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।
কখন খাবেন? দুধ সকাল, বিকেল বা রাতে—যেকোনো সময় খাওয়া যায়। তবে যারা অনিদ্রায় ভুগছেন, তারা রাতেই দুধ পান করুন। কারণ এতে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা ঘুমে সহায়ক। রাতে খাওয়ার কিছুক্ষণ পর দুধ পান করে ঘুমালে দারুণ উপকার পাবেন।