রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
রবীন্দ্রজয়ন্তীর উৎসবে শিলাইদহে ছড়ালো বৈশাখী সুরের জোয়ার!
অনলাইন ডেস্ক
আজ ২৫শে বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনেই কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নেন বাংলা সাহিত্যের অমর দিকপাল রবীন্দ্রনাথ, যিনি তার সৃষ্টির বিশাল ভাণ্ডার দিয়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বৈশ্বিক উচ্চতায়। কবি ছিলেন বহুমাত্রিক—গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, দার্শনিক ও মানবতাবাদী এক ভাবুক, যিনি সাহিত্যকে করেছেন বহুমাত্রিক ও সমৃদ্ধ।
ব্রাহ্ম সমাজের নেতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর পুত্র রবীন্দ্রনাথ মাত্র আট বছর বয়সেই লিখে ফেলেন প্রথম কবিতা। ১৮৯১ সালে পিতার নির্দেশে নদীয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন, যার সুবাদে কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তার জীবন কাটে বহু বছর। ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে পাড়ি দিয়ে স্থাপন করেন এক অনন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যা পরবর্তীতে বিশ্বভারতী হয়ে ওঠে জ্ঞানচর্চার আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে।
তার সৃষ্টির ভাণ্ডার রীতিমতো বিস্ময়কর—৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ ও অসংখ্য গদ্য সংকলন। এই মহান সাহিত্যস্রষ্টাকে আজ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন তার অগণিত অনুরাগী, দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
এবারের জন্মবার্ষিকীর মূল আয়োজন বসছে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, যেখানে কবি জমিদারি দেখভালের আড়ালে সৃষ্টি করেছিলেন অমর সব সাহিত্যকর্ম। পাশাপাশি নওগাঁর পতিসর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও খুলনার দক্ষিণডিহি-পিঠাভোগেও পালিত হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এসব স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে রবীন্দ্রমেলা, আলোচনা সভা ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
‘রবীন্দ্রনাথ ও বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এবার দেশজুড়ে চলছে রঙিন আয়োজন। ঢাকার বিভিন্ন সড়কদ্বীপসহ দেশের সব জেলা শহরে কবির ছবি, কবিতা ও শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর। বাংলা একাডেমি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নানা উদ্যোগে দিনটি হয়ে উঠেছে বর্ণাঢ্য।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যজগৎ যেন এক বৈচিত্র্যময় কাব্যকাবালিকা—মানবমনের জটিলতা, সামাজিক টানাপোড়েন আর রঙিন কল্পনার অনন্য মিশ্রণে গড়া। তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো—‘চারুলতা’র নিঃসঙ্গতা, ‘বিনোদিনী’র আত্মসচেতনতার জাগরণ, কিংবা ‘গোরা’র স্বদেশপ্রেমের জটিল দ্বন্দ্ব—আজও পাঠকের অন্তরে অমলিন। বিশ্বসাহিত্যের আসরে তিনিই এক উজ্জ্বল দীপশিখা, যাকে ১৯১৩ সালে সাহিত্যের নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করে বিশ্ব। এই গৌরবময় দিন উদযাপনে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের উচ্ছ্বাস, আর গণমাধ্যমও ব্যস্ত রবীন্দ্রচর্চায়।