মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এদিন বিশ্বজুড়ে নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা, তাদের অর্জনের স্বীকৃতি ও ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশসহ নানা দেশে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে, তবে এর প্রকৃত অর্থ শুধু উদযাপন নয়, বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারীদের সোচ্চার করাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন: নারী ও কন্যার উন্নয়ন’।
কেন নারী দিবসের প্রতীক বেগুনি?
নারী দিবসের পরিচায়ক বেগুনি রং আসলে ন্যায়বিচার ও মর্যাদার প্রতীক, যা নারীর সমতাভিত্তিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ইতিহাস বলছে, ১৯০৮ সালে যখন ১৫ হাজার নারী নিউইয়র্কের রাস্তায় কর্মঘণ্টা হ্রাস, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নামে, তখন থেকেই নারীবাদী আন্দোলনের রং হিসেবে বেগুনির প্রচলন শুরু হয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিবসের মতোই নারী দিবসের রং বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে এক বিশেষ ইতিহাস। যেমন— শান্তির প্রতীক সবুজাভ নীল, শ্রম দিবসের রক্তিম লাল কিংবা পরিবেশ দিবসের উজ্জ্বল সবুজ।
নারী দিবসের সূচনা ও ৮ মার্চের তাৎপর্য
নারী দিবসের ধারণা আসে শ্রমিক আন্দোলন থেকে। আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি প্রথম ১৯০৯ সালে জাতীয় নারী দিবস ঘোষণা করে, কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন জার্মান সমাজতন্ত্রী ক্লারা জেটকিন। ১৯১০ সালে তিনি কোপেনহেগেনের আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে দিনটি বিশ্বব্যাপী পালনের প্রস্তাব দেন, যা ১৭ দেশের প্রতিনিধিদের দ্বারা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
প্রথমবার ১৯১১ সালে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে উদযাপিত হয় নারী দিবস। তবে ৮ মার্চ নির্দিষ্ট হওয়ার পেছনে রয়েছে রুশ বিপ্লবের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৯১৭ সালে রুশ নারীরা ‘রুটি ও শান্তি’র দাবিতে সম্রাটের বিরুদ্ধে ধর্মঘট শুরু করেন। মাত্র চার দিনের মাথায় জার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং নারীদের ভোটাধিকারের স্বীকৃতি মেলে। সেই সময় জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে দিনটি ছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি, যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ৮ মার্চ। সেই থেকে নারী দিবসের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলে।
এ দিবস শুধুই উদযাপনের নয়, বরং সমাজে পরিবর্তনের ডাক। নারীর মর্যাদা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চাইলে কেবল ফুল ও শুভেচ্ছার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।