মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
পুলিশের উচ্চপর্যায়ে এক নাটকীয় রদবদলে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মতিউর রহমান শেখসহ ১৮ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এই রদবদলে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আসছে, যার মধ্যে কক্সবাজার, নীলফামারী, যশোর ও সুনামগঞ্জ জেলার নতুন পুলিশ সুপারদের পদায়ন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে এই চার জেলার আগের পুলিশ সুপারদের ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে, যা পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত বহন করছে।
নাটকীয় এই বদলির তালিকায় সিআইডির বর্তমান প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মতিউর রহমান শেখকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে পুলিশ একাডেমি সারদার প্রিন্সিপাল মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা, এন্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিমকেও সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি আশরাফুর রহমানকে সদর দপ্তরে সরিয়ে তার জায়গায় আতাউল কিবরিয়াকে পদায়ন করা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি মহা. আশরাফুজ্জামানকে রংপুর পিটিসিতে, সিআইডির ডিআইজি হারুন উর রশীদ হাজারীকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশের ডিসি সাইফুদ্দীন শাহীনকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া খুলনা রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদকে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ডিসি রওনক জাহানকে যশোর, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল ফজল মহম্মদ তারিক হোসেন খানকে নীলফামারী এবং পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার জিয়া উদ্দিন আহমদকে অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কক্সবাজার, নীলফামারী ও সুনামগঞ্জের সদ্য অপসারিত পুলিশ সুপারদেরও পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই বদলি জনস্বার্থে করা হয়েছে এবং আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে এই পরিবর্তনকে কেউ কেউ শুদ্ধি অভিযান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি প্রশাসনিক কৌশল। তবে এটি নিশ্চিত যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসে নেমেছে।