বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা মানবিক সহায়তাবাহী ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটক ও শতাধিক অধিকারকর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র প্রতিবাদের আগুন। স্পেন থেকে ইতালি, লন্ডন থেকে ওয়াশিংটন—পৃথিবীর নানা প্রান্তে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে, আর ইসরায়েলের হাতে আটক কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছে।
ইসরায়েলি বাহিনী ১ ও ২ অক্টোবর গাজা উপকূল সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় একাধিক ফ্লোটিলা জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো আটক করে। আটক অন্তত ২৫০ জনকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় আশদোদ বন্দরে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনের প্রতীক গ্রেটা থুনবার্গও—যা বিশ্বজুড়ে আরও ক্ষোভ উসকে দিয়েছে।
স্পেনের রাজপথে হাজারো শিক্ষার্থী হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা তুলে ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের দাবি জানায়। ইতালির রোম, মিলান, নেপলস, তুরিন ও জেনোয়া শহরজুড়ে একই দাবিতে একযোগে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির শক্তিশালী শ্রমিক ইউনিয়নগুলো শুক্রবার সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
লন্ডনে পার্লামেন্ট ভবন থেকে ডাউনিং স্ট্রিট পর্যন্ত বিশাল বিক্ষোভ মিছিল হয়। অংশগ্রহণকারীরা ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিশুদের ছবি তুলে ধরে গাজার অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে ফ্লোটিলায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি তোলা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচজন সাবেক মার্কিন সেনা ও এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্য।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাতেও ফিলিস্তিনিদের পক্ষ নিয়ে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে বিক্ষোভকারীরা গাজা অবরোধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নেয়।
গাজার অবরোধ ভাঙতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টার সংগঠন ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি টু ব্রেক দ্য সিজ’-এর প্রধান জাহির বিরাওয়ি শাফাক নিউজকে জানান, এই বিক্ষোভগুলো আসলে বিশ্ববাসীর এক গণভোট—যেখানে মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে, তারা অবরোধ চায় না। তিনি আরও জানান, গাজার উদ্দেশে নতুন একটি ফ্লোটিলা ইতিমধ্যে রওনা দিয়েছে, যা ধারাবাহিক ‘ফ্রিডম ওয়েভস’ অভিযানের পরবর্তী ধাপ।