শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রোববার (১৪ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমা, পাকিস্তানি ও ইরানি বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খসড়াগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সমঝোতার অধিকাংশ বিষয় নিয়ে দুই দেশের আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে কয়েকটি রাজনৈতিক ও ভাষাগত বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এক পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অবশিষ্ট মতবিরোধগুলো দ্রুত সমাধান করা গেলে রোববারই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। সম্ভাব্য স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে আগাম কোনো জল্পনা-কল্পনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফাঁস হওয়া খসড়া নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবরুদ্ধ কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করার উদ্যোগ নিতে পারে। পাশাপাশি দেশটির তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর বিপরীতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিন পৃথক আলোচনা চলবে। এই সময়ের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরানের বর্তমান অঙ্গীকার বহাল থাকবে।
তবে প্রকাশিত খসড়াগুলোতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংসের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। যদিও একজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত অপসারণ ও ধ্বংসের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে, সমঝোতা স্মারকের সম্ভাব্য শর্তাবলি প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরান যে শর্তগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে লিখিতভাবে সম্মত হওয়া প্রকৃত শর্তের মিল নেই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান আলোচনায় ইসরায়েলকে এখন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই সমঝোতা স্মারকের অংশ হবে না।