সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন
যেখানে কারওয়ান বাজারও হার মানে, সেই বাজারের খোঁজ মিলবে এখানে—
অনলাইন ডেস্ক
মোহাম্মদপুরের সাদেক খান কৃষি মার্কেট। স্থানীয়দের মুখে মুখে এর পরিচয় ‘আড়ত’ নামে, কিন্তু এই আড়তেই লুকিয়ে আছে ঢাকার এক সেরা বাজারের গোপন রহস্য! রায়েরবাজার বধ্যভূমির পাশের বেড়িবাঁধে গড়ে ওঠা এই বাজারে পা রাখলেই মনে হবে, আপনি ঢুকে পড়েছেন তাজা পণ্যের এক মিনি সাম্রাজ্যে।
বাজারে নামতেই প্রথম ধাক্কা—ধুলাবালির রাজত্ব। মুখে মাফলার জড়িয়েই শুরু হয় বাজার অভিযানের মূল কাহিনি। এখানে শুধু নিত্যপণ্যই নয়, কেনাকাটার পদ্ধতিও একদম ভিন্নধর্মী। পাইকারি দরে কিনতে হয়, তাই এক কেজি নয়—সরাসরি পাঁচ কেজি! যাকে বলে “পাল্লায় পাল্লায় সদাই।”
রায়েরবাজারের বাসিন্দা কানিজ আমীন বলেন, ‘‘আমাদের অর্ধেকের বেশি বাজার এখান থেকেই আসে।’’ মজার ব্যাপার হলো, এখানে অনেকেই মুরগি পর্যন্ত বাসায় অর্ডার করেই পান—পরিচিত দোকানদার জবাই থেকে শুরু করে মাংস তৈরি করে পৌঁছে দেন দরজায়!
এবার আসা যাক আলুর আড়তে।
নতুন আলুর মৌসুম—হলুদ, লাল আর বগুড়ার বিখ্যাত গোল আলুতে ঠাসা প্রতিটি দোকান। গুটি আলু ৫ কেজিতে ৫০ টাকা, বগুড়ার লাল ৫ কেজিতে ১৫০ টাকা। দাম চাইলে কমেও পাওয়া যায়—বস্তা কিনলে কেজিপ্রতি ১৪ টাকাও পড়ে!
আলুর বস্তা ওজনের ধান্দাও আলাদা রকমের মজার—এক দোকানদার নিজেই আলুর বস্তা মাথায় নিয়ে ওজন মেশিনে উঠে যান! নিজের ওজন বাদ দিয়ে উচ্চ স্বরে বলে ওঠেন, ‘‘৫৮ কেজি!’’ পাশে দাঁড়িয়ে লোকজন বস্তায় নাম লিখে চিহ্ন দিয়ে রাখে।
আছে আরও বিস্ময়—পেঁয়াজ-রসুন-আদার আড়ত! ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ থেকে আসা দেশি পেঁয়াজ ৪০-৪২ টাকা কেজি, রসুন ১৯০-২১০, আদা ৭০-১৩০ টাকা।
এমন বাজারে যারা একবার যান, তাঁরা বারবার ফেরেন—কারণ, এখানে শুধু দাম নয়, বাজারের অভিজ্ঞতাটাও আলাদা। আপনি যদি পাইকারি দরে টাটকা পণ্য চান আর সাথে চান এক ভিন্নধর্মী বাজারভ্রমণ—তাহলে এই আড়তই হতে পারে আপনার পরের গন্তব্য!