শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
বিচারের মুখোমুখি আলোচিত হত্যাকাণ্ড, বহাল রইল মৃত্যুদণ্ড!
অনলাইন ডেস্ক
বহুল চাঞ্চল্যকর অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সাবেক টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন দণ্ড এবং প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও বহাল রেখেছেন আদালত।
সোমবার (২ জুন) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে ২৯ মে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষ হয় এবং ২ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা দিপ্তী, জসিম সরকার এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ ও লাবনী আক্তার।
গত বছরের ২৩ এপ্রিল শুরু হয় আলোচিত এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। ঘটনাটি সংঘটিত হয় বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে।
এর পাঁচদিন পর, ৫ আগস্ট নিহতের বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ আদালতে মামলা করেন। এরপর র্যাবের তদন্তে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়, যেখানে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত’ বলা হয়।
২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত এই মামলার রায় দেন। তাতে প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড এবং এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই রায় অনুযায়ী মারিশবুনিয়ার তিন বাসিন্দা—নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও নিজাম উদ্দিনকেও যাবজ্জীবন দেওয়া হয়। অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির পর অবশেষে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হাইকোর্টের এই রায়ে বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।