সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
রাজ্যের সব স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার এক সপ্তাহের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার সব মাদ্রাসাতেও একই গানটি গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্য সরকারের মাদ্রাসা অধিদপ্তর থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার ভারতীয় গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গের সব স্বীকৃত মাদ্রাসায় প্রতিদিন সকালের অ্যাসেম্বলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা ও সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগের অধীনে থাকা সহায়তাপ্রাপ্ত এবং সহায়তাবিহীন—উভয় ধরনের মাদ্রাসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়, তার মধ্যে অন্যতম ছিল রাজ্যের সব স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়াকে বাধ্যতামূলক করা।
এর আগে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ক্লাস শুরুর আগে সকালের অ্যাসেম্বলিতে নিয়মিতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, আগের সব নির্দেশনা বাতিল করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্কুল শিক্ষা বিভাগের অধীন সব স্কুলে ক্লাস শুরুর আগে সকালের প্রার্থনা বা অ্যাসেম্বলিতে ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগেও গানটি রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ‘বন্দে মাতরম’-কে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমতুল্য মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়।
নতুন এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মাদ্রাসাগুলোতে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।