সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
Jahangirnagar University–এ বহিরাগত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে প্রশাসনের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ায় প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৬ মে) রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে একটি মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তারা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টরসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করেন।
এর আগে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার সম্ভব না হলে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা, প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে হেনস্তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিয়ে কুইক রেসপন্স টিমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী Lamisha Jaman বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতা এবং অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে প্রক্টর নৈতিকভাবে দায়িত্বে থাকার অধিকার হারিয়েছেন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে রাত তিনটার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য Mohammad Kamrul Ahsan। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তা প্রক্টরিয়াল বডি দেখভাল করে। তবে বহিরাগত কারও মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে পুলিশের আওতায় পড়ে।
তবে উপাচার্যের বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হয়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বুধবার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে Ashulia Police Station–এ মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।