রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
দেশকে ধ্বংসের কিনারায় ঠেলে দিয়ে, হাজারো নিরীহ মানুষকে গুম ও খুন করে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না— স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “যেকোনো মূল্যে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের বিচার করতে হবে। এ দেশ শহিদদের রক্তের দামে কেনা, এখানে স্বৈরশাসনের কোনো জায়গা নেই।”
বুধবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আয়োজনে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৫ জন শহিদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও র্যাবের গুলিতে নিহত মোহাম্মদ মাসুদের পরিবারকে বাড়ি উপহার উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন। সোনাগাজী সরকারি ছাবের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতি প্রমাণ করেছে— আন্দোলন এখনো বেঁচে আছে, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনতার ক্ষোভ থামেনি!
তারেক রহমান বলেন, “বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, বিএনপি সেই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শহিদদের আত্মত্যাগ ও জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের চেতনাই হবে আগামীর বাংলাদেশ গঠনের মূল শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, “এখন দেশে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, সেটি আমরা আড়াই বছর আগেই প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু স্বৈরাচার সেই প্রস্তাব আমলে নেয়নি। তাই জনগণের জন্য আমরা ৩১ দফা ঘোষণা করেছি। বিএনপি দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়, আমরা দেশ বিক্রি করতে আসিনি!”
তারেক রহমান অতীত স্মরণ করিয়ে বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও শিল্প বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ গড়ে তুলেছিলেন। আর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে দেশের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করেছেন। কর্মসংস্থানের জন্য তৈরি করেছিলেন অসংখ্য শিল্প-কারখানা।”
কিন্তু বর্তমান সরকারের ব্যর্থতায় সব কিছু মুখ থুবড়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন দুর্বিষহ। মানুষ প্রশ্ন করছে— “আমাদের জীবিকা, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায়?” বিএনপি সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে, এবং জনগণের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
তারেক রহমান সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জনগণের নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেই শহিদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের আস্থা বিএনপির ওপর আছে। আমাদের আরও জনপ্রিয় হতে হবে, আরও সংগঠিত হতে হবে, কারণ স্বৈরাচার এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন আমরা বিএনপি পরিবার কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, পরিচালনা করেন সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন, নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ বকুল, সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, সহ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমদ বেলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শাহানা আক্তার শানু, আবদুল লতিফ জনি, জালাল আহমদ মজুমদার, মামুনুর রশিদ, মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির জামাল উদ্দিন সেন্টু ও সৈয়দ আলম ভূঞা, শহিদ ছাত্রদল নেতা কাওছার উদ্দিনের পিতা ফিরোজ আলম, শহিদ মোহাম্মদ মাসুদের কন্যা মুনতাহ বিনতে মাসুদ, শহিদ জাফর আহমদের কন্যা জাহানারা বেগম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ২০১৬ সালে র্যাবের গুলিতে নিহত মোহাম্মদ মাসুদের পরিবারকে বাড়ি প্রদান করা হয়। ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের গণআন্দোলনে শহিদ হওয়া ৪৫টি পরিবারের হাতে দেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা।
সভা শেষে হাজারো নেতাকর্মীর কণ্ঠে একই শপথ ধ্বনিত হয়—
“স্বৈরাচারের বিচার চাই, মুক্ত গণতন্ত্র চাই!”
“এই যুদ্ধ চলবেই, শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না!”