শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে Bangladesh Jamaat-e-Islami–এর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা Shafiqur Rahman। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কখনোই এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করা হয়নি।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে Rangpur Shilpakala Academy–এ সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারি দল ইতোমধ্যে বিভিন্ন ‘উল্টাপাল্টা’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার সেই রায়কে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে তারা এ বিষয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং একদিন গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হবে বলে তাদের বিশ্বাস।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি দাবি করেন, একজন ‘বিতর্কিত ও দুর্বল’ ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ৪২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সময় দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন কী।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন চাইলেও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিভিন্ন অর্ডিন্যান্স বর্তমান সরকার বাতিল করে দিয়েছে এবং সেগুলো আলোচনায়ও আনা হয়নি। এ কারণে সংসদে আলোচনা না হওয়ায় তারা ওয়াকআউট করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে জনগণের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব ছেড়ে সংসদ বর্জন করেননি বলেও মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোকে জনগণের সঙ্গে ‘তামাশা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় ঘনিষ্ঠদের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর ও প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের সুখ-দুঃখ ও সমস্যার কথা সংসদে তুলে ধরতেই তারা নির্বাচিত হয়েছেন। সরকার ভালো কাজ করলে সমর্থনের পাশাপাশি সহযোগিতাও করা হবে, তবে অন্যায় বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেবেন।
জ্বালানি সংকটের সময় সংসদে আলোচনা চাইলেও সরকার তা এড়িয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে সরকার ও বিরোধীদলের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন আসে এবং জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাসী এবং সব নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে জাতীয় নির্বাচনের পর শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনের পরিস্থিতি দেখে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটি যেন তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিকল্প না হয়। তাঁর মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে।