সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সরকার গঠন করতে পারলে বিদেশে গমনেচ্ছুদের ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বিএনপি যাতে তারা দক্ষ ও স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মানুষগুলোকে দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর এটিই তার প্রথম নির্বাচনী জনসভা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাল-সবুজ রঙের একটি বাসে করে তিনি সভাস্থলে পৌঁছান।
সিলেটের প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সিলেটের অধিকাংশ মানুষ লন্ডন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে। আমরা চাই এই মানুষগুলোকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে। সরকার থেকেও আমরা ইনশা আল্লাহ সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব, যাতে সেই দক্ষ মানুষটিকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বহু মানুষের জীবনের ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ্য করছি, দেশের ভেতরে ও বাইরে কিছু মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে।’
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন—মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট কীভাবে চুরি করা হয়েছে। যারা দেশ থেকে পালিয়েছে, তারা আগের মতো ভোট ডাকাতি করার ষড়যন্ত্র করছে।’
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিদেশে বসেও তারা ষড়যন্ত্র করছে। ইলিয়াস আলী, দিদার, জুনায়েদসহ হাজারো মানুষের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার রক্ষায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
সিলেটের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘চব্বিশের গণ-আন্দোলনে সিলেটেই ১৩ জন জীবন দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত অধিকার রক্ষায় একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। দেশের ভেতরেও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তবে ৫ আগস্ট জনগণ প্রমাণ করেছে—ঐক্যবদ্ধ হলে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব।’
নির্বাচনের আগেই জান্নাতের টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে ‘শিরক’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘বেহেশত-দোজখের মালিক আল্লাহ। কোনো দল বা মানুষ এর টিকিট দিতে পারে না। যারা এমন কথা বলে, তারা মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে এবং মুসলমানদের শিরক করাচ্ছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সিলেট থেকে অনেকেই হজ বা ওমরাহ করেন। সেখানে দেখেছেন কাবার মালিক আল্লাহ। এই পৃথিবী, আকাশ, সূর্য-নক্ষত্র—সবকিছুর মালিক আল্লাহ। অথচ একটি দল নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যার মালিকানা মানুষের নেই, সেটার প্রতিশ্রুতি দেওয়া মানে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা।’
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সময়ে বিতর্কিত ভূমিকা অনেকেই পালন করেছে। তাদের কারণে লাখো শহীদ হয়েছেন এবং মা-বোনেরা নির্যাতিত হয়েছেন। জনগণ তাদের চিনে রেখেছে। এখন মিথ্যাচার ও হঠকারিতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
জামায়াতের নাম উল্লেখ না করে তারেক বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা বলছে, পূর্বে এক দলকে দেখেছেন, এবার অন্যকে দেখুন। ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে লাখো প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই সময়ে অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি।’
মিথ্যা ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করেছি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধুই ভোট বা কথা বলার অধিকার নয়—মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি মানুষ যেন ভালোভাবে খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে, নিরাপদে চলাচল করতে পারে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শুধু ভোট নয়, মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা চায়। দেশের নারী, যুবক, কৃষকসহ সব শ্রেণিকে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চায়।
তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার ও খালেদা জিয়ার সময় দেশ এগিয়েছে। কলকারখানা হয়েছে, কর্মসংস্থান হয়েছে, মানুষ বিদেশে কাজের সুযোগ পেয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলি—করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’