সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে আসন্ন নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা। তারা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাজধানীতে একজন রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যা করে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
নেতাদের মতে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং অপরাধীদের ওপর পর্যাপ্ত গোয়েন্দা নজরদারি না থাকার কারণে সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে একটি অপশক্তি সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রশাসনের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণও ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এর ফলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন খেলাফত মজলিসের নেতারা।
বৈঠকে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তারা বলেন, নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদী অপশক্তির সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের সঞ্চালনায় বৈঠকে দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।