সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন, সহিংস দমন-পীড়ন এবং দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক আকাশপথে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিমানসংস্থা ইরানগামী একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) একযোগে লুফথানসা, ফ্লাইদুবাই, তুর্কিশ এয়ারলাইন্স, এ-জেট, পেগাসাস, কাতার এয়ারওয়েজ এবং অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্স ইরানগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেয়। যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও দেশের ভেতরের চলমান অস্থির পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের তেহরান, শিরাজ, বান্দার আব্বাস ও মাশহাদগামী অন্তত ১৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানসংস্থাটির এক মুখপাত্র আল মনিটরকে জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে।
একই সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম বিমানসংস্থা এমিরেটসও তেহরানগামী একটি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা তুর্কিশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে শনিবার তেহরান, তাবরিজ ও মাশহাদগামী মোট ১৭টি ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। তুর্কিশ গ্রুপের সহযোগী সংস্থা এ-জেটও তেহরানগামী ছয়টি ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে, দোহাভিত্তিক হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, কাতার এয়ারওয়েজ এবং ওমান এয়ারের ইরানগামী একাধিক ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভ্রমণ সংকটের মূল কারণ ইরানে টানা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে যে আন্দোলনের সূচনা হয়, তা দ্রুত দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে এই আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।