সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথাও ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ইউরোপ ও কানাডার নেতারা আর্কটিক অঞ্চলটিকে সেখানকার জনগণের মালিকানাধীন বলে জোরালো দাবি তোলার পরই যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান সামনে এলো।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের অধিভুক্ত গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষ শক্তির প্রভাব মোকাবিলায় এটি প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই কৌশলগত বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য পূরণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। এসব বিকল্পের মধ্যে প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা ন্যাটো জোটের ভেতরে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এতে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যকার মতপার্থক্য আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। ২০১৯ সালে তার প্রথম মেয়াদেই বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে। সাম্প্রতিক সময়ে কারাকাসে এক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণের ঘটনার পর আবারও এই আগ্রহ জোরালোভাবে প্রকাশ পাচ্ছে।
এই অভিযানের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও আধিপত্য আর কখনো প্রশ্নের মুখে পড়বে না। একই সঙ্গে কলম্বিয়া ও কিউবার ওপর চাপও বাড়ানো হয়েছে। তার যুক্তি, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড দ্বীপের আশপাশে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ চলাচল বাড়ছে, যা প্রতিহত করার মতো সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই।
অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা মাত্র ৫৭ হাজার। দেশটির নেতৃত্ব একাধিকবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহী নয়।