সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে হামাসের সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) গাজায় সংঘটিত গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইসিসি। এই তথ্যটি আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইসিসির একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আদালত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ৮ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে ২০ মে, ২০২৪ পর্যন্ত সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নেতানিয়াহু ও গ্যালান্ত ইচ্ছাকৃতভাবে গাজার বেসামরিক জনগণকে খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং চিকিৎসা সামগ্রীসহ বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য পণ্য থেকে বঞ্চিত করেছেন। এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।
অন্যদিকে, একটি পৃথক বিবৃতিতে আদালত জানায়, মোহাম্মদ দেইফ, যিনি হামাসের সামরিক শাখার নেতা হিসেবে পরিচিত, তার বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতের মতে, ৭ অক্টোবর, ২০২৩ থেকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার জন্য দেইফকে দায়ী করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ইসরাইলি ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালানো এবং ৭ অক্টোবর হামলা পরিচালনা, যাতে সহস্রাধিক ইসরাইলি নিহত হয়।
জুলাই মাসে হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম ব্রিগেডের নেতা দেইফকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরাইল। সেই হামলাটি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি তাঁবু এবং পানি শোধনাগারে আঘাত হানে। এতে অন্তত ৯০ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়। তবে ওই হামলার পরও দেইফ জীবিত রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।
আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্তসহ হামাসের নেতাদের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন। ২০ মে এই আবেদন করা হলেও প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় তিনি বারবার তাগিদ দিয়েছেন। অবশেষে ছয় মাস পর আইসিসি ইসরাইলি দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিলো।
গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে আকস্মিক আক্রমণ চালায়, যা স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটির একটি বড় অভিযান হিসেবে চিহ্নিত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজার উপর সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ কার্যকর করেন ইয়োভ গ্যালান্ত। যদিও চলতি বছরের শুরুর দিকে নেতানিয়াহু গ্যালান্তকে বরখাস্ত করেন।
ইসরাইলি এই আগ্রাসনের ফলে গাজার অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘাতে ৪৪ হাজারেরও বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ১৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। গাজার অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।