সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
দীর্ঘকাল ধরে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে সেই ঝুঁকি হুমকির রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ইসরাইল এই হামলার জবাব দেয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান ঘোষণা করেছে, ইসরাইল যদি retaliate করে তবে তার পাল্টা জবাব হবে আরও ভয়াবহ।
গাজায় ইসরাইলের নৃশংস হামলাগুলি মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিচায়ক। এতে মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সেই সঙ্গে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের নতুন যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যেখানে তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। এতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে, উত্তেজনা আকস্মিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যকে দাবানলের মতো গ্রাস করতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এখান থেকেই শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
ইয়েমেনের হুতিরা ক্ষোভে ফুঁসছে, এবং ইরাকও কড়া বার্তা দিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানও সতর্ক করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরাঁকে ইসরাইল সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলছেন, গুতেরাঁ জাতিসংঘের ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে থাকবেন।
রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, এবং তারা সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়াইর লাপিদ ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, লেবানন, গাজা ও ইরানকে সন্ত্রাসীদের আস্তানা বলে অভিহিত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক হতে যাচ্ছে। ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই এই বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা চিঠিতে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, ইরান ইসরাইলকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। তিনি ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। তবে ইরান দাবি করেছে, তারা গাজা উপত্যকায় ও লেবাননে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞের প্রতিশোধ হিসেবে হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের হামলার পর সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেছেন, “ইরান একটি বড় ভুল করেছে—এর জন্য তারা মাশুল দেবে।” হামলার পর নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের সেনাবাহিনী প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত।
ইরান বলেছে, তারা যদি ইসরাইলের পাল্টা প্রতিশোধ না নেয় তবে তাদের হামলা এখানেই শেষ। তবে ইসরাইল যদি retaliate করে, তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হবে।
মঙ্গলবার রাতে ১৮০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের দিকে ছোড়া হয়। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরাইলের কড়া হুঁশিয়ারির সাথে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত যুদ্ধের আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।
ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবস্থানে ইসরাইল নতুন করে বোমা হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের সৈন্যরা ইসরাইলি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।
লেবাননে স্থল আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর, কোপেনহেগেন ও স্টকহোমে ইসরাইলি দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া লেবানন থেকে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
এইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে, এবং পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।