সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন
একটি সাদা ‘দুধ’ আর অমরত্বের লড়াই: মাইকেল জ্যাকসনের শেষ দিনের অব্যক্ত গল্প
অনলাইন ডেস্ক
২৫ জুন ২০০৯—বিশ্বের এক অসাধারণ শিল্পী মাইকেল জ্যাকসন তার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাত্র ৫০ বছর বয়সে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু সারা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়, এক অবিশ্বাস্য শোকে ডুবিয়ে। মৃত্যুর পেছনে যে কারণে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত—চেতনানাশক ওষুধ প্রোপোফল। আর এই প্রোপোফল ছিল মাইকেলের শেষ সঙ্গী, যা দেখতে দুধের মতো সাদা হওয়ায় তিনি নিজেই ডাকতেন তাকে ‘দুধ’। কিন্তু সেই ‘দুধ’ই হয়ে যায় তার বিদায়ের কারণ।
আজও মাইকেলের মৃত্যুর রহস্য ও শেষ সময়ের নানা অজানা কথা জনসাধারণের জন্য কৌতূহলের বিষয়। ব্রিটিশ তথ্যচিত্র ‘মাইকেল জ্যাকসন অ্যান্ড দ্য ডক্টর: আ ফ্যাটাল ফ্রেন্ডশিপ’ এ উঠে এসেছে সেই অজানা অধ্যায়, যেখানে মাইকেলের সেই বিতর্কিত চিকিৎসক কনরাড মারে তার শেষ দিনের নানা স্মৃতি ও ঘটনা শেয়ার করেছেন।
তথ্যচিত্রে মারে বলেন, মাইকেল ছিলেন ইনসমনিয়ার (ঘুমের রোগে) শিকার। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ঘাটতি তাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছিল। আর এই কারণেই তিনি প্রোপোফলের উপর আসক্ত হয়ে পড়েন।
প্রোপোফল ছিল তার একান্ত সঙ্গী—দিনে রাতে অনুনয় করতেন চিকিৎসককে, যেন তাকে ‘দুধ’ দেওয়া হয়। এটি ছিল তার একমাত্র আশ্রয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সেই ‘দুধ’ই হয়ে যায় তার জীবন থেকে বিদায়ের সোপান।
মাইকেল ছিলেন একাকিত্বের পক্ষে, শান্তিপ্রিয়। কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল চাপা, কারণ তার বাড়ির চারপাশে সারাক্ষণ পাপারাজ্জি এবং ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত।
মারে স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি বাড়িতে কখনো শান্তিতে থাকতে পারতেন না। পাপারাজ্জিরা সর্বদা নজর রাখত। অনেকবার আমরা গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যেতাম। মাইকেল গা ঢাকা দিয়ে পিছনের সিটে লুকিয়ে থাকতেন, নিরাপত্তাকর্মীদের বলতেন, “আমাদের পিছু নিতে হবে না।” এরকম ঝুঁকি তাকে নিতে দেখে আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে যেত।’
অপর একটি অজানা তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে—মাইকেল কখনো পেডিকিউর বা ম্যানিকিউর করাননি!
তার পায়ে ছিল প্রচণ্ড ব্যথা, কিন্তু তিনি কখনো তা প্রকাশ করেননি। মারে জানালেন, ‘আমি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের এনেছিলাম তার জন্য। ব্যথা কমাতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। প্রথমবার নাচতে পারছিলেন ব্যথা ছাড়াই, যা তার জন্য বিস্ময়ের ছিল।’ এই দৃঢ়তা ও যন্ত্রণার মধ্যেও নাচতে পারার গল্প মাইকেলের লড়াই ও সংগ্রামের নিদর্শন।
মাইকেলের মৃত্যুর সময় এক বড় দোষ ছিল চিকিৎসকের। মারে তখন জরুরি মুহূর্তে নিজের টেলিফোনে বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন। জরুরি নম্বরে ফোন করতে দেরি হয়েছিল।
এই অবহেলা ও বিভিন্ন অভিযোগের কারণে ২০১১ সালে তিনি ‘অনিচ্ছাকৃত খুন’–এর দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড পান।
তথ্যচিত্রে মারে মাইকেলের শেষ কথাগুলোও স্মরণ করেন। সেই কথাগুলো থেকে বোঝা যায় মাইকেলের মানসিক অবস্থা, তার আকাঙ্ক্ষা, ভয় এবং জীবনের প্রতি তার লড়াই। সে সব কথা হৃদয়স্পর্শী, একাধারে করুণ আর প্রেরণাদায়ক।