সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ট্যাংকার ‘এমটি বাংলার সৌরভ’-এ শুক্রবার মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। উদ্ধার করা হয়েছে ৪৭ জন নাবিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে।
ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তি সাদেক মিয়া (৫৯), তাঁর বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই তথ্য বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে জানান, যা বিএসসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
পর্যাপ্ত সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নাশকতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কমোডর মালেক বলেন, দুর্ঘটনার ঠিক আগে একটি ছোট নৌযান ট্যাংকারটির পাশ দিয়ে দ্রুত চলে যায়, যার পরপরই চারটি স্থানে স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়। এমন ঘটনার পেছনে নাশকতার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধানের জন্য আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর মাত্র পাঁচ দিন আগেই বন্দরের ডলফিন অয়েল জেটিতে নোঙর করে রাখা বিএসসির আরেকটি ট্যাংকার ‘এমটি বাংলার জ্যোতিতে’ বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যেখানে তিনজন নিহত হন। এভাবে কম সময়ের মধ্যে দুটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
কমোডর মাহমুদুল মালেক আরও জানান, উভয় ট্যাংকারকেই জ্বালানি পরিবহনের কাজ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ ট্যাংকারটির জন্য এটি ছিল শেষবারের মতো জ্বালানি পরিবহন। দুর্ঘটনার সময় ট্যাংকারে ১১ হাজার টন জ্বালানি তেল ছিল, যা বন্দরের ডলফিন অয়েল জেটিতে আজ খালাস করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শুক্রবার দিবাগত রাত ১২:৩০ মিনিটের দিকে ট্যাংকারটির ডেকে চারটি স্থানে স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়, এবং অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বন্দরের টাগবোটসমূহ দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে যোগ দেয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দ্রুত পদক্ষেপের কারণে ৪৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ট্যাংকারের যে অংশে জ্বালানি তেল ছিল, সেখানে আগুন লাগেনি। বর্তমানে ট্যাংকারটি থেকে নিরাপদে জ্বালানি তেল স্থানান্তর করে কীভাবে পরবর্তী উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।