সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনে গুলি চালিয়ে হত্যা এবং হত্যার চেষ্টার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়েরের খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, ধানমন্ডি ও গুলশান থানায় এসব মামলা রেকর্ড করা হয়। শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারের সাবেক মন্ত্রীরা, সংসদ সদস্যরা এবং একাধিক পেশার ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার পতিত হয়। ১৫ আগস্ট ঢাকার আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয়। এরপর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ২১৮টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৭টি হত্যার অভিযোগ।
রাজধানীর গুলশানে আবদুল গনি নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় আবদুল গনির বাবা আবদুল মজিদ শেখ এ মামলা করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুলাই সকাল ১১:৩০ এর দিকে শাহজাদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনে অংশ নেন আবদুল গনি। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শামসুল হক এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।
রাজধানীর ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে হাসনাইন আহমেদ নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৭২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর হাসনাইনের আত্মীয় রেজাউল হক বাদী হয়ে এই মামলা করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুলাই রাত ৯টার দিকে সাতমসজিদ রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার মিছিল চলছিল। মিছিলে অংশ নেন হাসনাইন আহমেদ। তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীসহ প্রায় ২০০ জন সন্ত্রাসী মিছিলে হামলা চালায়। গুলিটি হাসনাইনের বুকে লাগে। পরে তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, দুদকের প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল এবং ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমেদকে আসামি করা হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরে আজাদ হোসেন (২৯) নামের এক যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর মিরপুর থানায় এই মামলা রেকর্ড করা হয়। এজাহারে বলা হয়, ৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে মিরপুর–১০ নম্বর গোলচত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনে যোগ দেন আজাদ হোসেন। তখন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৪০ জন নেতাকর্মীসহ আরও অনেকে হামলা চালায়। হামলার সময় আজাদ হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন, ডিএমপির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশীদ এবং সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারকে।
যাত্রাবাড়ীতে শুক্কুর আলী রনি নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী শুক্কুর আলী গত ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানায় এই মামলা করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং উপকমিশনার আশরাফ ইমাম রয়েছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সুফিয়া গার্মেন্টসের সামনে ছাত্র–জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের কর্মী এবং পুলিশ হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর সময় শুক্কুর আলী গুলিবিদ্ধ হন।