শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন
নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন অধ্যায়: বিএনপি নেতাকর্মীদের ম্যুরাল ভাঙার তাণ্ডব
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। মহানগর বিএনপির নেতাকর্মী ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দুপুরের দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রথম আঘাত হানা হয়, এরপর একে একে পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনের ম্যুরালও একই পরিণতি ভোগ করে। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত কর্নারও ধ্বংস করা হয়, যা ঘটনাটিকে আরও চাঞ্চল্যকর করে তোলে।
সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই দৃশ্য মুহূর্তেই রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দেয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা নিজেদের “গণ-আন্দোলনের বিজয়” বলে দাবি করে উল্লাসে মেতে ওঠেন। উপস্থিত জনতার কেউ কেউ হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ যেন এক উন্মত্ত উচ্ছ্বাস, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রকাশ পেল নির্মম আঘাতের মাধ্যমে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, “অনেক ত্যাগের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টদের পরাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু তারা তাদের চিহ্ন রেখে গেছে, যা আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। তাই আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে আমরা আমাদের শহীদদের নামের তালিকা স্থাপন করব, যারা প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন।”
অন্যদিকে, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেন, “স্বৈরাচারের চিহ্নকে আমরা একে একে মুছে ফেলব। ২৪-এর গণ-আন্দোলনের চেতনাকে কলুষিত হতে দেব না। যারা অন্যায়ভাবে আমাদের উপর শাসন কায়েম করেছে, তাদের প্রতীকও থাকবে না।”
এ ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধান, সাবেক সভাপতি আব্দুল বারী ভূঁইয়া, মহানগর বিএনপির সদস্য রফিক আহমেদ, জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জাকিরসহ আরও অনেকে।
ঘটনার সময় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেন, আবার অনেকে নিশ্চুপ থেকে দেখেন কিভাবে রাজনৈতিক সংঘাতের আগুন বাস্তবতাকে গ্রাস করছে। কেউ কেউ বলছেন, “এটা গণতন্ত্রের চেতনার জন্য ভয়াবহ। প্রতিহিংসার এই রাজনীতি দেশের জন্য শুভ নয়।” আবার কারও মতে, “এটাই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, যাদের দমন করা হয়েছে, তারা প্রতিরোধ করবেই।”
নারায়ণগঞ্জের এই ঘটনা দেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একথা নিশ্চিত, এই ঘটনার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হতে যাচ্ছে। ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস বদলে দেওয়া যাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।