সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে অংশ নিতে শনিবার (৩ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র জমা দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এরই মধ্যে সারজিস আলমের হলফনামায় উল্লেখ করা আয় ও অস্থাবর-স্থাবর সম্পদের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।
হলফনামা অনুযায়ী, সারজিস আলমের পেশা ব্যবসা। এই খাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯ লাখ টাকা, যা মাসিক হিসেবে ৭৫ হাজার টাকার সমান। সেখানে তার নিজস্ব নামে কোনো বাড়ি কিংবা গাড়ির উল্লেখ নেই।
তবে নিজস্ব গাড়ি বা বাড়ি না থাকা সত্ত্বেও গাড়িতে চলাফেরা ও বসবাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দেয়। এসব বিতর্কের প্রেক্ষিতে সারজিস আলম দাবি করেছেন, হলফনামায় সম্পূর্ণ সঠিক ও বাস্তব তথ্যই উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সারজিস আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব ফটোকার্ড তৈরি হয়, সেগুলো সাধারণত বেশি রিচ ও পাবলিসিটি পাওয়ার লক্ষ্যেই বানানো হয়। তিনি বলেন, তিনি যে বাড়িতে বসবাস করছেন, সেটি তার বাবার তৈরি করা বাড়ি। আর নির্বাচনী প্রচারণা কিংবা অন্যান্য কাজে যে গাড়িটি ব্যবহার করছেন, সেটি ভাড়াকৃত—নিজস্ব সম্পত্তি নয়। তাই সেটি হলফনামায় দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না।
হলফনামার আয় ও সম্পদের তথ্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সেখানে বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে হিসাব দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা মাত্র আমাদের পথচলা শুরু করেছি। অনেকের মতো বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার কথা আমাদের নয়। যতটুকু সত্য, ততটুকুই হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সারজিস আলম জানান, তার কাছে যদি বর্তমানে মোট ৩ লাখ টাকা থাকে, তাহলে সেটিই দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, সহযোদ্ধা, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
হলফনামা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, সারজিস আলমের বয়স ২৭ বছর এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে নগদ অর্থ দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ ১ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবপত্রের অর্জনকালীন মূল্য দেড় লাখ টাকা হলেও বর্তমানে এর মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে দানকৃত ১৬ দশমিক ৫০ শতক কৃষিজমির মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার আয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা এবং পরিশোধিত আয়কর ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।