রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
নোয়াখালীতে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবক আবদুর রহমান (৩৪) সোনাইমুড়ি উপজেলার হীরাপুর গ্রামের মৃত সাইদুল হকের সন্তান।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এর আগে বিকেলের দিকে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনী হীরাপুর গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় আবদুর রহমান ও সুরু মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান (২৫) গুলি এবং ছোরাসহ আটক হন। পরে তাদের সোনাইমুড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
নোয়াখালী সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রিফাত আনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, অভিযানের সময় দুটি গুলি ও তিনটি ছোরাসহ দুই আসামিকে আটক করা হয়। সকাল ৭টার দিকে তাদের সোনাইমুড়ী থানায় সোপর্দ করা হয়। এরপর পুলিশ মামলা রুজু করে আসামিদের আদালতে উপস্থাপন করে। শুনেছি সন্ধ্যায় একজন মারা গেছেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মো. আবদুল মান্নান শাকিল গণমাধ্যমকে জানান, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে পুলিশ আবদুর রহমানকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। তার শরীরে মারধরের চিহ্ন ছিল। ভর্তির পর কিছুক্ষণ পর ওয়ার্ডে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
নোয়াখালী আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সোনাইমুড়ী থানার অস্ত্র আইনের মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করলে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে বিচারক চিকিৎসার নির্দেশ দেন। এরপর তাদের পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ইব্রাহীম গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের নির্দেশের পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়। আমরা এখন হাসপাতালে আছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলতে পারবেন।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি মো. মোরশেদ আলমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল কেটে দেন। এমনকি মেসেজ পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।