শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন নুর (৫৯)-কে বেধড়ক মারধর করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
আমির হোসেন নুর সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ছাত্রদল নেতা সোহেল হত্যা মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর মিরের ময়দান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৯। পরে রাতে তাকে বালাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ আমির হোসেন নুরকে নিয়ে গেলে বিএনপি এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হঠাৎ হামলা চালায়। প্রথমে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
সিলেট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, আসামিকে আদালতে হাজির করার আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। যদি আগে থেকে কোনো নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে জানা যেত, তাহলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেওয়া সম্ভব হতো। সাধারণ আসামি হিসেবে তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু এ সময় হামলা চালানো হয়। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা আসামিকে রক্ষার চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, আহত অবস্থায় আসামিকে সরাসরি আদালতে পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আসামির ওপর হামলার বিষয়টি তিনি জানেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সিলেট-৩ আসনের বালাগঞ্জের পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমদ সোহেল। এ সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সোহেলের চাচাতো ভাই এবং পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআর মামলা নং ০২/২০১৯ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।