সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় মেঘনা নদীতে প্রায় ২০ জন যাত্রী বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে গেছে। তবে ট্রলারটি তীরের কাছাকাছি অবস্থান করায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নোয়াখালী থেকে ভাসানচরগামী ট্রলারটি ভাসানচরের উপকূলের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ করে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে উল্টে যায়। এতে যাত্রী ও মালামালসহ ট্রলারটি নদীর পানিতে তলিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রলারটিতে ২০ জন যাত্রীর পাশাপাশি একজন মাঝি ও তার দুই সহকারী ছিলেন। ট্রলারটি সকাল ১১টায় করিমবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও অন্যান্য কারণে দুপুর প্রায় ২টায় যাত্রা শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভাসানচরের কাছাকাছি পৌঁছালে ঢেউয়ের তীব্রতায় ট্রলারটি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাসানচর থেকে স্পিডবোট এবং আশপাশে থাকা ট্রলারগুলোর সহায়তায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এতে ট্রলারে থাকা সব যাত্রী ও নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে মালপত্রসহ ট্রলারটি এখনো ঘটনাস্থলে ডুবে রয়েছে।
ট্রলারের যাত্রী সুজন বলেন, হঠাৎ বড় ঢেউ আঘাত হানলে ট্রলারটি উল্টে যায় এবং সবাই পানিতে পড়ে ভেসে যাই। তিনি জানান, আগে এখানে সরকারি একটি সি-ট্রাক চলাচল করত। ৫ আগস্টের পর সেটি সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটছে। নিরাপদ সি-ট্রাক ব্যবস্থা না থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
করিমবাজার এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, প্রাণহানি না হলেও ট্রলারে থাকা কয়েক লাখ টাকার মালামাল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। ভাসানচর-নোয়াখালী নৌপথে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সরকারি সি-ট্রাক চালু করা এখন জরুরি।
এ বিষয়ে ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল হাসান জানান, ট্রলারটিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও বিভিন্ন এনজিও কর্মীসহ মোট ২৩ জন ছিলেন—এর মধ্যে ২০ জন যাত্রী, একজন মাঝি ও দুই সহকারী। সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কোনো নিখোঁজ নেই। ট্রলারে নারী যাত্রী কিংবা কোনো রোহিঙ্গা ছিলেন না বলেও জানান তিনি।