শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
সম্প্রতি রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ছিনতাইকারীরা দ্রুত ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে রাতে, যার ফলে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগীরা বেশিরভাগ সময় ঘটনাগুলো আইনগতভাবে রিপোর্ট না করলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।
গত সোমবার রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডি এলাকায় একটি সিসিটিভি ফুটেজে একটি চাঞ্চল্যকর দৃশ্য ধরা পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ধানমন্ডি ১১ নম্বর সড়কের মোড়ে চারজন যুবক দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত উপস্থিত হয়। মুহূর্তেই তারা রিকশায় থাকা এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করে। ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে মোবাইল, মানিব্যাগ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে সটকে পড়ে।
বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সেই আক্রান্ত ব্যক্তি।
ধানমন্ডির পাশাপাশি মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই এবং ডাকাতির মত অপরাধ বেড়ে গেছে। এমনকি মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে ডাকাতি করার ঘটনাও ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মোটরসাইকেল ব্যবহার করে অপরাধীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে রাতের বেলা ধানমন্ডি এবং মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারা আতঙ্কিত অবস্থায় যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত তিন মাস—আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর—এই সময়কালে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে মাত্র ৪৪টি মামলা হয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদুল হক মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির ঘাটতির সুযোগে অপরাধীরা তাদের কার্যক্রম জোরদার করেছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগীরা আইনি জটিলতায় জড়াতে চান না বলে মামলা করতে আগ্রহী নন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান এবং জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন করা হবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।
সূত্র: সময়