সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
গোপনীয়তা নয়, এখন ঝুঁকির কেন্দ্রে হোয়াটসঅ্যাপ—যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে রীতিমতো তোলপাড়
অনলাইন ডেস্ক
হোয়াটসঅ্যাপের উপর আস্থা হারাচ্ছে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এখন এক কাঠি সরেস—সরকারি কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল, ট্যাবলেটসহ যেকোনো যন্ত্র থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে তারা। আর ব্যক্তিগত ডিভাইসেও যদি সরকারি কাজের ছিটেফোঁটাও থাকে, তাতেও নেই হোয়াটসঅ্যাপের ঠাঁই!
এই কড়া সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি। হাউসের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার (CAO) সরাসরি সদস্য ও কর্মকর্তাদের ই-মেইলে জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপ তথ্য সুরক্ষায় যে নিয়ম অনুসরণ করে, তা যথেষ্ট নয়। এমনকি অভিযোগ উঠেছে—অ্যাপটিতে সংরক্ষিত তথ্য এনক্রিপ্ট না থাকার মতো দুর্বলতা রয়েছে, যা হ্যাকিং ও নজরদারির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে প্ল্যাটফর্মটিকে।
বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপের ওপর এই আস্থা হারানোর পেছনে অনেক ঘটনা ভূমিকা রেখেছে। যেমন, চলতি বছরের শুরুতেই হোয়াটসঅ্যাপ নিজেই স্বীকার করে—ইসরায়েলভিত্তিক স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্যারাগন সলিউশনস বেশ কয়েকটি দেশের সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক প্রতিনিধিদের উপর নজরদারি চালাতে চেয়েছিল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেই।
এই ধরনের নজরদারির হুমকি কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়। সম্প্রতি ইরান সরকারও হোয়াটসঅ্যাপসহ কিছু জনপ্রিয় অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের অ্যাপগুলো দেশের সংবেদনশীল তথ্য পাচারের বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে।
তবে এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে সোজাসাপ্টা অবস্থান নিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেন, “হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিটি বার্তা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড। ফলে কোনো বার্তা হোয়াটসঅ্যাপ নিজেও দেখতে পারে না। এ অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস এতেই সন্তুষ্ট নয়। হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প হিসেবে তারা ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিয়েছে সিগন্যাল, আইমেসেজ, ফেসটাইম, মাইক্রোসফট টিমস ও উইকার ব্যবহারের। এসব অ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরযোগ্য বলেই মনে করছে তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার নিরাপত্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তি বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। আর এই কারণেই সরকারগুলো প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর ক্রমেই কঠোর হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি বিশ্বে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে রয়েছে নিরাপত্তার প্রশ্ন, অন্যদিকে ব্যক্তিগত যোগাযোগের স্বাধীনতা। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথে এবার হোয়াটসঅ্যাপকে দিতে হতে পারে বড় পরীক্ষা।
এই মুহূর্তে পাঠকদের জন্য জরুরি পরামর্শ:
আপনি যদি সরকারি সংস্থায় কাজ করেন বা কোনো সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করুন। ঝুঁকি কমাতে সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
🛰️ তথ্য নিরাপত্তা এখন গুজব নয়, বাস্তব হুমকি!
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও প্রভাব ফেলবে? হোয়াটসঅ্যাপের ভবিষ্যৎ কি তবে কুয়াশাচ্ছন্ন?
সূত্র: নিউজ১৮ (কনটেন্ট রিভাইসড ও এঙ্গেইজিং ভার্সনে রিডিজাইন)