শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
আজ বুধবার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও অস্তিত্ব রক্ষার অঙ্গীকারে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর এক বৈঠকে এমন ঘোষণা এসেছে। বৈঠকে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে একত্রিত থাকার বিষয়টি সবার মধ্যে স্পষ্ট ছিল।
রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বানে বিকেলে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ভারতে বাংলাদেশবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড, আগরতলার সহকারী হাইকমিশনে হামলা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ, এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানানো হয় বৈঠকে। বৈঠকের আলোচনায় এসব ইস্যুতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয় এবং আরো শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বন্ধু ও প্রবাসীদের সহযোগিতা গ্রহণ এবং বৈশ্বিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর সক্রিয় সম্পৃক্ততারও সুপারিশ করা হয়।
অ্যাসিফ নজরুল বলেন, বৈঠকে অতীতে ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তিগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা এবং দেশের জন্য ক্ষতিকর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য চুক্তি বাতিল করার দাবি উঠে। বৈঠকে উপস্থিত রাজনীতিবিদেরা ভারতের অর্থনৈতিক নিপীড়ন, সাংস্কৃতিক আধিপত্য এবং অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে, ভারতকে সম্মানজনক এবং সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করার আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত সব সম্প্রদায়ের মানুষের ভূমিকাকে প্রশংসিত করা হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং যেকোনো প্ররোচনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আসিফ নজরুল বলেন, ‘সবার বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশ দুর্বল বা পরাভূত নয়, বরং যেকোনো অপপ্রচার বা উসকানির বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং সাহসী।’
বৈঠকে একটি রাজনৈতিক কাউন্সিল, নিরাপত্তা কাউন্সিল এবং সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তাব উঠে। আসিফ নজরুল বলেন, ‘বৈঠকের মূল বার্তা ছিল, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাই এক এবং এর ওপর কোনো কিছু স্থান পাবে না।’
বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন। জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দলের নেতারাও বৈঠকে অংশ নেন।
কমিউনিস্ট পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, জাতীয় পার্টি, বাসদ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, লেবার পার্টি, জাগপা এবং অন্যান্য সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন।
গতকাল থেকে শুরু হওয়া জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টায় ছাত্রনেতা, ধর্মীয় সংগঠন এবং অন্যান্য সুধীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের আয়োজন করছেন প্রধান উপদেষ্টা। আজকের বৈঠকটি ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। আগামীকাল তিনি ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।