সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের নতুন ভিসা বন্ড নীতির আওতায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। নতুন এই তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম রয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই বিধান কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য উপযুক্ত হলেও কনস্যুলার কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও সাক্ষাৎকার মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ড নির্ধারণ করতে পারবেন। নির্ধারিত বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম Pay.gov-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই ভিসা বন্ড একটি ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানত। ভিসাধারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পেলেও ভ্রমণ না করলে অথবা বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি না পেলে জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে।
এছাড়া, ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে—বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) বিমানবন্দর এবং ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই তিনটির বাইরে অন্য কোনো বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করলে বন্ড শর্ত লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পাইলট কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের নিরুৎসাহিত করা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে।