সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
শুক্রবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই শনিবার (২২ নভেম্বর) ৮ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী ও আশপাশে আরও তিন দফা মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে। ধারাবাহিক ভূকম্পনের এ পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এটিকে আশাব্যঞ্জক সংকেত বলা যায় না। বলেছেন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৯১টি ভূমিকম্প নথিবদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে বৈশ্বিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ‘আর্থকোয়াকট্র্যাকার ডটকম’। রোববার (২৩ নভেম্বর) প্রকাশিত ওয়েবসাইটটির আপডেটে এ তথ্য উঠে আসে। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়—গত এক সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৮৫২টি ভূমিকম্প ঘটেছে।
শুক্রবার বাংলাদেশে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। পরদিন শনিবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ১২ সেকেন্ডে প্রথম ভূমিকম্পটি হয়; রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩। কম্পনের উৎপত্তি ছিল ঢাকা থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর–পূর্বে নরসিংদীর পলাশে। সন্ধ্যায় ঢাকার বাড্ডা এলাকায় আরও দুটি ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, সন্ধ্যায় রাজধানীতে পরপর দুটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। প্রথম কম্পনটি হয় সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে, মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭। ঠিক ১ সেকেন্ড পর ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে দ্বিতীয় কম্পন ঘটে, যার মাত্রা দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৩। প্রথমটির উৎস ছিল বাড্ডা, আর দ্বিতীয়টির উৎপত্তিস্থল নরসিংদী।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হওয়া ভূমিকম্পে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং সারা দেশেই এর প্রভাব অনুভূত হয়। আতঙ্কে অনেক মানুষ ঘর-বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। ওই দিনের ঘটনায় শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু এবং ছয় শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নরসিংদীতে পাঁচজন, ঢাকায় চারজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন মারা যান। অনেকে আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ে; পাশাপাশি কিছু ভবনে হেলে পড়া ও ফাটলের ক্ষয়ক্ষতিও দেখা দেয়।