শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর থেকেই একাধিক মামলায় বিভিন্ন অভিযোগের আসামি হিসেবে তার নাম জড়িয়ে পড়ে। তবে এবার তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের হয়েছে, যা নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আদালতে জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের তালিকায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামও রয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক থ্রি বোল্ট কোর্ট চেম্বার্সের ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন গত ২৮ অক্টোবর এই অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানা যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে এবং মূল সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছেন এ আইনজীবী।
যুক্তরাজ্যের লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ নভেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “গত ২৮ অক্টোবর আমি অভিযোগ দায়ের করেছি। মামলায় শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ বিভিন্ন সংস্থার ৭০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।”
ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীরা যখন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছিল, তখন তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি আরও জানান, পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়েছে। আমরা এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক আদালতের সামনে তুলে ধরছি।
ওই সময় আন্দোলন দমাতে সরকার পুলিশ, র্যাব ও ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে। আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড এবং সরাসরি বুলেট প্রয়োগ করা হয়। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রাণ হারান এবং প্রায় ২২ হাজার মানুষ আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হয়ে ৯২ জনের দৃষ্টিশক্তি হারায় এবং বহু মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন। এসব ঘটনা গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত।
তিনি জানান, রোম স্ট্যাটিউটের ১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন অপরাধের তথ্যসহ ভিডিও প্রমাণ ও প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গোপন বন্দিশালায় নির্যাতন, চলাচল ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং গণহত্যাসহ গুরুতর অপরাধের বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের অগ্রগতি নিয়মিত জানানো হবে বলে জানান ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন।