শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক দুই মন্ত্রিপরিষদ সচিব, দুই মুখ্য সচিবসহ মোট সাতজন সচিবের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক আহমেদ নিশ্চিত করেছেন, একটি খুনের ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় আসামির তালিকায় আছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন (যদিও মামলায় সাবেক বলা হলেও তিনি বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব), সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ফয়েজ আহমেদ এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান।
একই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়াদ্দারকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, যাত্রাবাড়ীতে ১৮ বছর বয়সী মেহেদী হাসানকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য ৯৪ জনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। নিহত মেহেদীর চাচা মো. নাদিম মামলাটি করেন। তবে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার একটি মিছিল চলছিল। সে সময় শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিরা উসকানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষার্থীদের দমনের আহ্বান জানান। এরপর কামরাঙ্গীরচরের টেকেরহাট ইউনিট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ছাত্র-জনতার মিছিলে সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলায় মেহেদী হাসান গুলিবিদ্ধ হন এবং স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক দুই মুখ্য সচিব ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ছিলেন, এবং আবুল কালাম আজাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া আজ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতন হয়। ১৫ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করা হয়। এরপর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ২২৫টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৩টি হত্যা মামলা। বেশিরভাগ মামলায় শেখ হাসিনার সাথে তাঁর সরকারের সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের নেতা এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে।
হাতিরঝিলে যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহত মো. ইসমাইলের (৪৬) স্বজন আজিজুর রহমান। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই বেলা তিনটার দিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র-জনতা হাতিরঝিলের বেটারলাইফ হাসপাতালের সামনে মিছিল করছিল। সেই সময় আওয়ামী লীগের নেতা আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এক–দেড় শ নেতা–কর্মী ও সন্ত্রাসীরা মিছিলের ওপর গুলি চালায়।
ইসমাইল ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন এবং বেটার লাইফ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলায় আরও অভিযুক্ত হিসেবে আছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ, ডিএমপির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশীদ, এবং পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম।