সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
বিয়ে মানুষকে শালীনতা, পবিত্রতা ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনের পথে পরিচালিত করে। মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই বিয়ের বিধান প্রচলিত। ইসলামে বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যে ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে এবং বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তার জন্য অযথা বিলম্ব না করে বিয়ে করা ইমানি দায়িত্ব।
নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য রয়েছে, তার উচিত বিয়ে করা। কারণ বিয়ে দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌবনের প্রবৃত্তি দমন করে।’ (বুখারি : ৫০৬৫, মুসলিম : ১৪০০)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন, তারিখ বা মাস নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি; বরং সামর্থ্য হলেই দেরি না করে বিয়ে সম্পন্ন করাই উত্তম।
বর্তমান সময়ে অবশ্য উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। এ কারণে বিয়ের আগে পাত্রীকে দেখা ও প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া নবীজি (সা.)-এর সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যেন দেখে নেয়, যা তাকে বিয়েতে আগ্রহী করে তোলে।’
বর্ণনাকারী বলেন, ‘আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর তাকে দেখার ইচ্ছা অন্তরে গোপন রাখি। পরে গোপনে তার মধ্যে এমন কিছু গুণ দেখি, যা আমাকে তাকে বিয়ে করতে উৎসাহিত করে। এরপর আমি তাকে বিয়ে করি।’ (আবু দাউদ : ২০৮২)
অন্য হাদিসে এসেছে, মুগিরা বিন শোবা (রা.) বলেন, ‘আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম, না। তখন তিনি বলেন, তাকে দেখে নাও। এতে তোমাদের দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বাড়বে।’ (তিরমিজি : ১০৮৭)
পাত্রীর কতটুকু অঙ্গ দেখা যাবে?
উল্লিখিত হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা থেকে ফকিহরা বলেন, পাত্রীকে গোপনে দেখে নেওয়াই উত্তম। আনুষ্ঠানিকভাবে দেখাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে পাত্র পাত্রীর মুখ, দুই হাত (কবজি পর্যন্ত) ও দুই পা (টাখনু পর্যন্ত) দেখতে পারে। পোশাকের ওপর দিয়ে শরীরের সামগ্রিক অবয়ব দেখা বৈধ। শর্ত হলো—এ দেখা কেবল বিয়ের উদ্দেশ্যেই হতে হবে, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়। (হিদায়া : ৪/৪৪৩)
পাত্রের সঙ্গে কারা থাকতে পারবেন, কারা পারবেন না?
রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ গণমাধ্যমকে জানান, কনে দেখার সময় পাত্রের সঙ্গে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ থাকা বৈধ নয়। এমনকি পাত্রের বাবাও সেখানে থাকতে পারবেন না। ছোট শিশু থাকলে সমস্যা নেই।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে বরের সঙ্গে তার মা, বোন অথবা অন্য কোনো মাহরাম নারী স্বজন থাকতে পারেন। যদি এদের কেউ না থাকে, তবে ছোট বাচ্চা রাখা যেতে পারে। তবে বর ছাড়া বরপক্ষের অন্য কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের উপস্থিতি কোনোভাবেই অনুমোদিত নয়।
মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ আরও জানান, পাত্রের জন্য কনের হাত বা অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করাও জায়েজ নয়। সে কারণে কনে আংটি পরিয়ে দেওয়া বৈধ হবে না। আংটি দিতে চাইলে পাত্রপক্ষের কোনো নারী সদস্য অথবা কনের মাহরাম স্বজনের মাধ্যমে তা পরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।