সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন
অনেক মানুষ ঘরের ভেতর কিংবা বাথরুমে একা থাকলে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় স্বাচ্ছন্দ্যে গোসল করে থাকেন। বিষয়টি অনেকের কাছে একেবারেই সাধারণ মনে হলেও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি মোটেও হালকাভাবে দেখার মতো নয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শালীনতা, লজ্জাবোধ ও পর্দার শিক্ষা দিয়েছেন— এমনকি যখন কেউ সম্পূর্ণ একাকী থাকে তখনও।
কারণ, ইসলামে পর্দা কেবল মানুষের দৃষ্টির আড়ালেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সর্বক্ষণ আল্লাহর উপস্থিতি অনুভব করার একটি আত্মিক অনুশীলন। সেই কারণে একেবারে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা বা অপ্রয়োজনে সম্পূর্ণ কাপড় খুলে থাকা ইসলামি শরিয়তে নিরুৎসাহিত বলে বিবেচিত হয়েছে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, যারা বাথরুমে খোলামেলা অবস্থায় গোসল করার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন, তাদের উচিত এখনই এই অভ্যাস পরিত্যাগ করা। কারণ বাথরুমে এভাবে গোসল করার ফলে অন্তত তিনটি বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
গণমাধ্যম–এর পাঠকদের জন্য রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ এই তিনটি বিপদের বিষয় ব্যাখ্যা করেছেন। আসুন, বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক—
১. বদজ্বিনের ক্ষতিকর প্রভাব
বিশ্বনবী (সা.) বাথরুমে প্রবেশের সময় একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন— ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউ‘জুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট বাথরুমের অপবিত্র জিন ও শয়তান থেকে আশ্রয় চাই। (মুসলিম : ৭১৮)
মুফতি ইয়াহইয়া শহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দোয়ার নির্দেশনার পেছনে কারণ হলো— বাথরুমে শয়তান ও ক্ষতিকর জিনের বিচরণ তুলনামূলকভাবে বেশি। কেউ যখন সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গোসল করে, তখন শয়তান ও বদজ্বিন তার গোপনাঙ্গ নিয়ে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে খোলামেলা গোসল বর্জন করা জরুরি।
২. হাতের যেনার আশঙ্কা
মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ আরও বলেন, নগ্ন অবস্থায় গোসল করার সময় নিজের গোপনাঙ্গের দিকে দৃষ্টি পড়া স্বাভাবিক হয়ে যায়। এতে শয়তান মানুষের মনে কুমন্ত্রণা ঢুকিয়ে হস্তমৈথুনের দিকে প্রলুব্ধ করে। ফলে একজন ব্যক্তি বড় ধরনের গোনাহে জড়িয়ে পড়তে পারে। এ পাপ থেকে বাঁচতে হলে খোলামেলা গোসল পরিহার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
৩. লজ্জাবোধ হ্রাস পাওয়া
হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে— লজ্জা ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ (মুসলিম : ৫৮)। ফিকাহবিদদের মতে, যারা নিয়মিত উলঙ্গ অবস্থায় গোসল করেন, তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে লজ্জাবোধ কমে যেতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে আচরণ ও চরিত্রে। একসময় তারা সহজেই বিভিন্ন পাপে জড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক জীবনেও নির্লজ্জ আচরণ প্রকাশ পায়।
এ ছাড়া কিছু ইসলামি আলেমের মতে, যারা গোপনে বা অধিক সময় ধরে নিজের লজ্জাস্থানের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তাদের দৃষ্টিশক্তির জ্যোতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে মেধাশক্তি দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তারা মনে করেন।